অপরাধ ও আদালত

ক্রেতা সেজে বিশেষ কায়দায় স্বর্ণের দোকানে লুট

দক্ষিণবঙ্গে ছক কষে উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন জেলায় লুট করে স্বর্ণের দোকান। ক্রেতা সেজে তথ্য সংগ্রহের পর বিশেষ কায়দায় লুটের পরিকল্পনা চলে তাদের। পদে-পদে দায়িত্ব ভাগ করে দোকান লুট করে গা ঢাকা দেয় চক্রটি। তাদের টার্গেট স্বর্ণ, মোবাইল আর বিকাশের দোকান। একটি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে চতুর এই চক্রের সন্ধান পায় বগুড়ার পুলিশ।

বগুড়ার আল তৌফিক জুয়েলার্স থেকে তালা কেটে ১১০ ভরি স্বর্ণ লুটের পর কোনো ক্লু না পেয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়েছিল পুলিশ। গত ২০ এপ্রিল শহরের প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেটের এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

গত ৯ মে পুলিশের জালে ধরা পড়ে চক্রের সদস্য কুমিল্লার রুবেল ও শাহজালাল আর নারায়নগঞ্জের নয়ন। এরপর বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ক্রেতা সেজে প্রথমে দোকানের নিরাপত্তার দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়। এরপর কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে দোকান লুটে নিয়ে সটকে পড়ে তারা। যাদের টার্গেট বিকাশ, মোবাইল আর স্বর্ণের দোকান।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, 'কে রেকি করবে, কে ভল্ট ভাঙবে, এই চুরি করা স্বর্ণালঙ্কার কোথায় নিষ্পত্তি হবে ‌সেসব প্রতিটি বিষয় পরিকল্পনা করে করা। তারা তাদের কোনো ছাপ রেখে যায়নি। আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করেছি, তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। অনেকটা ভাসমানভাবে থাকে তারা।'

এক গ্রুপ দোকানের শাটারের সামনে পর্দা ধরে। সেই পর্দার আড়ালে চলে শাটার বা তালা ভাঙার কাজ। মানুষের গতিবিধি খেয়াল রাখতে আরেক গ্রুপের নজর থাকে রাস্তায়। এরপর লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রি হয় কুমিল্লায়। দক্ষিণে বসে পরিকল্পনার পর উত্তরের জেলা বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দোকান লুট করে এই চক্র।

সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, 'কুমিল্লা থেকে একটি জুয়েলারি দোকানের স্বত্বাধিকারী এসব চুরি করা স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে। তাদের মূল ক্ষেত্র মূলত কুমিল্লা অঞ্চল। যখন তারা সুযোগ পাচ্ছে তারা উত্তরবঙ্গে এসে বিভিন্ন অপরাধ করছে।'

দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি ব্যবসায়ীদের। তবে, অভিযোগপত্র দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা আর সঠিক সময়ে সাক্ষী হাজিরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইনজীবিরা।

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, 'যাারা স্বাক্ষী দিতে যাবে তারা যেন ভয়শূণ্য মনে স্বাক্ষী দিতে পারে। স্বাক্ষী দেয়ার পরে তাদের নিরাপদ জায়গায় তারা যেতে পারে এটা নিশ্চিত করতে হবে। এজহার ও চার্জশীটের সমন্বয় থাকা দরকার। অনেক ক্ষেত্রে এটাতে গ্যাপ থাকে। এতে করে অনেক দিন পর যখন স্বাক্ষী দিতে যায় অনেক সময় স্মৃতিতে থাকে না।'

নিজ বাড়িতে না থেকে স্বর্ণ লুট চক্রের এই সদস্যরা অবস্থান নেয় ভাড়া বাড়িতে। ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মাদারীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই চক্রের সদস্য সংখ্যা পঞ্চাশের উপরে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এমএসআরএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর