প্রায় ২০ বছর আগে চুয়াডাঙ্গায় স্বল্প পরিসরে ভুট্টা চাষ শুরু হয়। লাভজনক হওয়ায় এখন কৃষকেরা ব্যাপকভাবে ভুট্টা উৎপাদনে আগ্রহী। পুষ্টিগুণ ও অর্থকরী ফসল হিসেবে এ অঞ্চলে ভুট্টার চাষ ক্রমেই বাড়ছে।
কৃষকেরা জানান, ভুট্টা চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম। এলাকায় গবাদিপশু ও মাছের খামার বৃদ্ধি পাওয়ায় ভুট্টার চাহিদাও বেড়েছে, ফলে আবাদও বাড়ছে। চলতি মৌসুমে বিঘাপ্রতি প্রায় ১৫ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তারা। তবে বাজারদরের কারণে প্রত্যাশিত লাভ কিছুটা কম হচ্ছে বলেও জানান কৃষকেরা।
সার, বীজ, কীটনাশক ও জমি প্রস্তুতসহ প্রতি বিঘায় খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ফলন হচ্ছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ মণ। জেলায় মোট ৯৪ হাজার ২২০ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে এবার ৪৭ হাজার ৭৫৫ হেক্টরে ভুট্টার চাষ হয়েছে। উৎপাদিত ভুট্টার বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগের চেয়ে বেশি ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা।
আরও পড়ুন:
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ভুট্টা কাটার কাজ শেষ হয়। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকেরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘এবার প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার ভুট্টা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। পরিচর্যা ও আবহাওয়া ভালো থাকলে উৎপাদন আরও বাড়তে পারে।’
মানুষ, গবাদিপশু ও মাছের খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার বাড়ায় দিন দিন এর চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই কৃষকেরা ক্রমশ ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।





