এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়; ফেনীতে মিষ্টি বিক্রিতে ধস

মিষ্টির দোকান
মিষ্টির দোকান | ছবি: এখন টিভি
0

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মিষ্টি কেনার ধুম পড়ে মিষ্টির দোকানগুলোতে। তবে এবার ফেনীতে দেখা যায়নি সেই চেনা চিত্র। জেলার প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় ফল প্রকাশ ঘিরে নেই প্রত্যাশিত উৎসবের আমেজ। এর প্রভাব পড়েছে মিষ্টির বাজারেও। অন্যান্য বছরের তুলনায় বিক্রি কমে যাওয়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা।

আজ (শনিবার, ৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল অনুযায়ী, ফেনী জেলায় পাশের হার ৫২ দশমিক ১৬ শতাংশ। জেলার ৯ হাজার ৪৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪ হাজার ৯৪০ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৪ হাজার ৫৩১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ১৪১ জন। অর্থাৎ, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেননি। তবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে ফেনীর অবস্থান দ্বিতীয়।

ফল প্রকাশের পর ফেনী শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকান ঘুরে ক্রেতাদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। জয় গোপাল, রসমেলা, মধুমেলা, স্টারলাইন, মস্কো, হ্যাভেন বেকার্স, বিস্কুট বাড়ি এবং বড় বাজারের বিসমিল্লাহ সুইটস ও ইসলামিয়া সুইটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অন্যান্য বছরের মতো বাড়তি ক্রেতার চাপ ছিল না।

ব্যবসায়ী মো. তুহিন বলেন, ‘প্রতিবছর এইচএসসির ফল প্রকাশের পর ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের পরিবার ও স্বজনেরা মিষ্টি কিনতে আসেন। এসময় আমাদের বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু এবার ফলাফল ভালো না হওয়ায় ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। অন্যান্য বছরের তুলনায় বিক্রি অনেক কম হচ্ছে।’

আরেক ব্যবসায়ী সুজন দাস বলেন, ‘ফল প্রকাশের দিনকে ঘিরে প্রতিবছরই আমাদের বাড়তি প্রস্তুতি থাকে। এবারও ভালো বিক্রির প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু দোকানে ক্রেতাদের তেমন চাপ নেই। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায়ও বিক্রি আশানুরূপ হচ্ছে না।’

সাধারণত এইচএসসির ফল প্রকাশের দিন মিষ্টির দোকানগুলোতে বাড়তি বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের পরিবার ও স্বজনেরা মিষ্টি কিনে আনন্দ উদ্‌যাপন করেন। তবে এবার ফেনীতে ফলাফলের হতাশাজনক চিত্রের পাশাপাশি ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল কম। ফলে প্রত্যাশিত বেচাকেনা না হওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে মিষ্টি ব্যবসায়ীদের।

জেআর