উপজেলার কাচারি বাজারের পাশের খাজুলিয়া গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়িতে ঘটছে এসব ঘটনা। আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই বাড়িটিতে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন ঘটনাটি দেখতে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ১০ দিন ধরে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠছে। কখনো রান্নাঘরের বেড়া, কখনো লেপ-তোষক কিংবা ঘরের অন্যান্য জিনিসে আগুন লাগছে। আগুনের উৎস বুঝতে না পারায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঠানে এনে রেখেছেন। স্বাভাবিকভাবে রান্নাবান্না ও খাওয়াদাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। আত্মীয়দের বাড়ি থেকে তিন বেলা খাবার এনে খেতে হচ্ছে তাদের।
বাড়িতে অবস্থানকালে আবারও আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। রান্নাঘরের কাছে জুতা ও পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তায় আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তা নিভিয়ে ফেলেন। তাদের দাবি, ওই দিনই আটবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
বাড়ির মেজ ছেলে আব্দুল হাকিম বলেন, ‘টানা ১০ দিন ধরে দুর্বিষহ যন্ত্রণায় ভুগছি আমরা। দিনে আট-দশবার হুটহাট আগুন লেগে যাচ্ছে। কে বা কেন আগুন লাগাচ্ছে, কিছুই বুঝতে পারছি না। কবিরাজ, হুজুর এনেও কাজ হচ্ছে না। কারও সঙ্গে আমাদের শত্রুতাও নেই। সব কাজ ফেলে সারাক্ষণ বালতি-মগ নিয়ে আগুন নেভাতে দৌড়াতে হচ্ছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এসেও আগুনের কারণ খুঁজে পায়নি। আমরা এই আগুন আতঙ্ক থেকে মুক্তি চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়া, জামেলা খাতুন ও রফিক মিয়া জানান, প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ বাড়িটিতে আগুন লাগার ঘটনা দেখতে আসছেন। তাদের কেউ কেউ ঘটনাটিকে অতিপ্রাকৃত বলে মনে করছেন। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নন।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আগুন লাগার ঘটনা তদন্ত করেও এখন পর্যন্ত কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। কী কারণে এমনটি ঘটছে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে আগুন লাগার ঘটনা এখন কিছুটা কমেছে বলে জানা গেছে।’
মুক্তাগাছা ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বাড়িটিতে আগুন লাগার ঘটনাটি বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। তিন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও আগুনের কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিভাগীয় কমিশনারসহ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারাও আগুন লাগার মূল কারণ খুঁজে পায়নি।’
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়ছে নানা গুজব, যার প্রভাব পড়ছে আশপাশের কয়েকটি উপজেলাতেও। হাটবাজার ও চায়ের দোকানে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু পঞ্চায়েত বাড়ির আগুন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে আতঙ্কের অবসান চান।





