মানিকগঞ্জ হরিরামপুরের ইছামতী নদী। যে নদী একদিন ছিলো এ জনপদের প্রাণভোমরা, আজ তার বুকে নেই স্রোতের কলতান, নেই জীবনের কোনো স্পন্দন। নদীর বিভিন্ন অংশে গড়ে তোলা হয়েছে একের পর এক বাঁধ। কোথাও সেই বাঁধের উপর বসে গেছে রাস্তা, কোথাও আবার গজিয়ে উঠেছে দোকানপাট, এমনকি বসতবাড়িও। ফলে পদ্মার পানি আর পৌঁছাতে পারছে না ভাতছালা, দিয়ার কিংবা গোপীনাথপুরের মতো বিস্তৃত বিলগুলোতে। একে একে শুকিয়ে যাচ্ছে জলাশয়, হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছ, আর পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে কৃষক ও জেলে পরিবারগুলো।
এদিকে বর্ষা এলেও মেলে না স্বস্তি। বাঁধে আটকে পড়া কচুরিপানা পঁচে ছড়াচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। নদীতে জমছে গৃহস্থালির বর্জ্য আর মানববর্জ্যের স্তূপ। দূষিত এ পানিতে বাড়ছে মশার উপদ্রব, ভেঙে পড়ছে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য। যে নদী একদিন মানুষের জীবনের ভরসা ছিলো, আজ সেই নদীই যেন হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের আরেক নাম। নদীতে পানি না থাকায় কৃষি কাজের অবস্থা তেমন একটা ভালো না বলে জানান স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীর হারানো স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে চিহ্নিত করা হচ্ছে অবৈধ বাঁধ। পর্যায়ক্রমে সেগুলো অপসারণ করা হবে।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘নদীর প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আর স্থানীয় জনগণের সুবিধার কথা ভেবে যে সমস্ত বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলো অপসারণ করে এবং হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার বসিয়ে নদীর প্রবাহ সচল রাখার কাজ চলমান আছে।’
একটি নদী শুধু পানির ধারা নয়, এটি একটি জনপদের জীবন, জীবিকা আর প্রকৃতির অস্তিত্ব। তাই ইছামতীকে বাঁচাতে দখলমুক্ত, অপ্রয়োজনীয় বাঁধ অপসারণ এবং দ্রুত পুনঃখননের দাবি স্থানীয়দের।





