দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল বরিশালের কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল। এখানে সেখানে বড় বড় গর্তে জমে রয়েছে পানি। তার মধ্যেই গাড়ি পার্কিং করছেন চালকরা। একই অবস্থা টার্মিনাল ভবনটিরও। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে প্রতিনিয়ত। বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
বাস চালকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এই বাস টার্মিনাল খানা হয়ে গেছে বিভিন্ন জায়গায়। টার্মিনালের ভিতর সংস্কার করা করবে কয়? ভাঙাচোরা, গাতা, গাড়ি রাখা যায় না। হ্যাঁ, গাড়ি ফেঁসে যায়। ভাঙাচোরা এই জায়গার পানি জমে বৃষ্টি হলে ঢুকতে কষ্ট হয়।
পদ্মা সেতু চালুর আগে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল করতো ৮০ থেকে ৯০টি। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩ গুণ। তবে এত বাস রাখার যথেষ্ট স্থান নেই টার্মিনালটিতে। বাস মালিক সমিতির অভিযোগ, সিটি করপোরেশনে বার বার চিঠি দিয়েও মেলেনি সুরাহা।
আরও পড়ুন:
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রশাসন বলেন, সিটি করপোরেশন বলেন, প্রত্যেকেরই আমরা লিখিতভাবে সমস্যার জন্য জানানো হয়েছে। কি কি কাজ করতে হবে ভিডিও চিত্রসহ তাদের কাছে দেয়া হয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত কিছুই করে নি। শুধুই আমাদেরকে আশ্বস্ত করছে, করে দিচ্ছে।’
সিটি করপোরেশন বলছে, বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে থাকার কারণে প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সংস্কার নয়, বরং সমস্যা সমাধানে টার্মিনালটি দ্রুত স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন। গড়িয়ার পাড় এলাকায় প্রায় ১২ একর জমির উপর স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহাজ শিরীন বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের পাঁচটা জেলায়, বাকি পাঁচটা জেলার গাড়ি চলাচল করে। যার জন্য ওই জায়গাটা বাস স্ট্যান্ড যদিও আছে দেখে কিন্তু ঐখানে জ্যাম হয়। বাস স্ট্যান্ড পরিবর্তন করা হবে এইখান থেকে। হয় কাশিপুরে হবে অথবা আমাদের সামনে যে গড়িয়ারপাড় যেখানে আমরা এখন কাজ করছি, এই দুই জায়গার এক জায়গায় আমরা পার্মানেন্টলি বাস স্ট্যান্ড করবো।’
এদিকে, কাশিপুর এলাকায় ৩ বছর আগে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ একর জমিতে নির্মাণ করা হয় নতুন বাস টার্মিনাল। তবে এখনো বাস বা যাত্রী কারো পদচারণাই পড়েনি সেখানে।





