আজ (রোববার, ২১ জুন) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
জেলার লংগদু উপজেলার কালাপাকুজ্যা মৌজার হেডম্যান (মৌজা প্রধান) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী ফোরামের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকম, সাধারণ সম্পাদক ইন্টুমনি তালুকদার, কবি শিশির চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি সুজিত দেওয়ান, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান, শিক্ষাবিদ বাঞ্চিতা চাকমা, বিএনপি নেত্রী নুরজাহান বেগম পারুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন করতে হবে এবং চুক্তির বিধান অনুযায়ী একজন উপজাতি ব্যক্তিকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। তারা বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে অন্যত্র পদায়ন ও সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ প্রত্যাহারপূর্বক তাকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পুনর্বহালের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের স্বার্থে চুক্তির বিভিন্ন ধারা অনুসারে গঠিত প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও কার্যকর করতে হবে এবং পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পাঠানো হয়।
কবি শিশির চাকমা বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তির মূল নির্যাস উপজাতীয়দের পক্ষ থেকে একজন পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হবেন। কিন্তু দেখা গেল দীপেন দেওয়ানকে মন্ত্রী করলেও মীর হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এটা পার্বত্য চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেননি। জোরকরে কৌশলে তাকে সরানো হয়েছে। আমরা চাই পার্বত্য অঞ্চলে শান্তির জন্য আলোচনার প্রয়োজন আছে। দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যাপারে কথা আছে। এজন্য জনপ্রতিনিধি দরকার। তাই দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের জন্য নতুন করে পার্বত্যবাসীর কাছ থেকে দাবি এসেছে। আমরা দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে পুনর্বহাল ও চুক্তি অনুসারে মীর হেলালকে আমরা অসম্মান করতে চাই না। তাকে অন্যত্র পদায়ন করার দাবিতে আজ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলো।’





