গরমের সঙ্গে লোডশেডিং; বিপর্যস্ত উত্তরের জনজীবন

উত্তরের জনপদ
উত্তরের জনপদ | ছবি: এখন টিভি
0

জৈষ্ঠ্যমাস শেষ হলেও গরমে নাভিশ্বাস উত্তরের জনজীবনে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়া লোডশেডিংয়ে ব্যাহত জনজীবন, কারখানায় কমছে উৎপাদন। দিনে ও রাতের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অলস সময় পার করছেন উৎপাদন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত শ্রমিকরা। এদিকে, গরমে বাজারে বেড়েছে এসি, পোর্টেবল ফ্যান, চার্জার ফ্যানসহ বাড়ছে ইলেকট্রনিক নানা গেজেটের চাহিদা। এমন সংকটে ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পড়ে আছে মুখ থুবড়ে।

উত্তরের বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরের পথে ঘাটে হাঁটলেই কানে আসে কলকারখানার ব্যস্ততার আওয়াজ, অলি গলিতে চোখ মেললেই দেখা যায় হালকা ও মাঝারি প্রকৌশল শিল্পের ভারি ভারি যান্ত্রিক ব্যবহার। লোহা ও লৌহজাত কাঁচামাল নির্ভর এসব উৎপাদনশীল কারখানার উপর ভর করেই রংপুর বিভাগের মধ্যে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে সৈয়দপুরের অর্থনীতি।

সৈয়দপুরে এমন হাজারখানেক ছোট বড় কারখানায় যে উৎপাদন হয় তার বাজার ছাড়িয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। তবে, সম্প্রতি লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত উৎপাদন। গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়ায় দিনের বেশিরভাগ সময় অলস পার করছেন কারখানার শ্রমিকরা। এতে উৎপাদন কমে, গতি কমছে অর্থনীতির। শ্রমিকরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকা কারণে তাদের কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে বলেন তারা।

আরও পড়ুন

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ ও ২-এর আওতায় প্রায় ১১ লাখ গ্রাহক থাকলেও বেশিরভাগই আসাবিক সংযোগ গ্রাহক। তবে, কেবল সৈয়দপুরে নেসকোর আওতায় প্রায় ষাট হাজার গ্রাহক থাকলেও সিংহভাগেরই সংযোগ ছোট বড় কারখানা ও হালকা প্রকৌশল শিল্পে। এদিকে, উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহের বড় স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র চলছে ঢিমেতালে। এখানে ৫শ' ২৫ মেগাওয়াট ধারণক্ষমতার ৩টি ইউনিট থাকলেও, ১শ' ২৫ মেগাওয়াটের ১টি ও ২শ' ৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটিতে। অবশিষ্ট ১টি ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে পড়ছে বিরূপ প্রভাব। বাজারে বেড়েছে এসি, পোর্টেবল ফ্যান, চার্জার ফ্যানসহ ইলেকট্রনিক নানা গেজেটের চাহিদা। বেচাকেনা বেড়েছে নগরীর দোকানগুলোয়। গরমে আরাম পেতে এসব যন্ত্রের বাজার বড় হবার সঙ্গে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদাও।

একজন বিক্রেতা বলেন, ‘এখন চার্জার ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে ৫০০, তারপরে ১২০০, ১৩০০, ১৫০০, ৪০০০, সাড়ে ৪০০০ বিভিন্ন ক্যাটাগরির আছে।’

একজন ক্রেতা বলেন, ‘ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং যাচ্ছে। এজন্য গরমের চাপটা আছে। সেই তুলনায় চার্জার ফ্যান বেশি বিক্রি হচ্ছে।’

তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে একদিকে অর্থনীতির চাকা যেমন মন্থর হবে, অন্যদিকে বিরুপ প্রভাব পড়বে আঞ্চলিক অর্থনীতিতে। এসব কারখানা বন্ধ হলে বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর।

জেআর