চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের নারায়নপুর ইউনিয়নের জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে আধুনিক ভবন। মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত শিক্ষার্থীদের দেখা মিললেও দীর্ঘ সময়েও শিক্ষকদের দেখা মেলেনি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে প্রক্সি শিক্ষক দিলরুবা খাতুন শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীকে একাই সামলাচ্ছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের আগমনের সংবাদ পেয়ে সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে আসেন সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরিফ। এসে কয়েকদিনের হাজিরা খাতায় সই করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সারাদিন অপেক্ষার পরও অন্য শিক্ষকের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে তাদের পরিচয়ই নেই। এমনকি, কেউ কেউ একজন শিক্ষকের নামও বলতে পারেনি। একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘কেউ আসে না, আমরা খেলাধুলা করে বাড়ি চলে যাই।’
শিক্ষকের অভাবে স্কুলে খেলাধুলা করেই সময় পার করে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ইংরেজি শেখা দূরের কথা, অনেকেই এখনো বাংলায় নিজেদের নাম লিখতেও শিখেনি।
আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি পড়া পারি না। আমার পাশের ও কেউ পড়া পারে না। বসে থাকি আর খাওয়া-দাওয়া করে চলে যাই।’
তিন হাজার টাকা মাসিক বেতনে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দিলরুবা খাতুন।
জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রক্সি শিক্ষক বিলরুবা খাতুন বলেন, ‘কারও পক্ষ থেকে না, যৌথভাবে সবাই মিলে আমাকে রেখেছে।’
টানা কয়েকদিন পরে এসে, অন্য শিক্ষকদের অবস্থান জানাতে না পারলেও তাদের পক্ষে সাফাই গাইলেন এই সহকারী শিক্ষক।
জোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নেওয়াজ শরিফ বলেন, ‘সবাই আছে এখানে। কারো কোনো কাজ থাকায় হয়তো আসেনি, হয়তো হেড স্যারকে জানিয়ে ওই কাজ করছে।’
নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দিয়ে মানসম্মত পাঠদানে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি অভিভাবক ও স্থানীয়দের। কয়েকজন অভিভাবকরা জানান, কেউই ক্লাস করাতে আসে না। তাই ছেলে-মেয়েরা কিছুই শিখছে না।
অন্যদিকে, প্রক্সি শিক্ষক রেখে পাঠদান নিয়মের বাইরে নয় বলে দাবি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার।
চাঁপাইনবাগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো.সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি চাকরি এটা কিন্তু আসলে নিয়ম মেনেই করা হয়। ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষক স্বল্পতা কারণে শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, শিক্ষিত ব্যক্তি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক—এদেরকে অস্থায়ীভাবে রাখতে পারে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৭০৫টি। এরই মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে চরাঞ্চল এলাকায়।





