চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুপেয় পানির সংকট, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবি

সুপেয় পানি সঙ্কট
সুপেয় পানি সঙ্কট | ছবি: এখন টিভি
0

দীর্ঘদিন ধরেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। সম্প্রতি বসানো ডিপ টিউবওয়েলে অস্বাভাবিক গরম ও লবণাক্ত পানি উঠছে। একই সঙ্গে পানির আশপাশে দিয়াশলাই জ্বালালে আগুনের শিখা জ্বলে উঠছে। এসব কারণে নানা ধরনের গুঞ্জন ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে পরিবর্তন, পানিতে রাসায়নিক মিশ্রণ, গ্যাসের উপস্থিতি কিংবা কোনো প্রাকৃতিক কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তাদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় পানির কলে স্বাভাবিক ঠাণ্ডা পানির পরিবর্তে এখন গরম ও লবণাক্ত পানি উঠছে। আকস্মিক এই পরিবর্তনে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। এদিকে পানির কলের আশপাশে দিয়াশলাই জ্বালালে আগুনের শিখা জ্বলে উঠছে। যা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

২০২০-২১ অর্থ বছরে জাইকার সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পের অর্থায়নে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় তিনটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিলো নিরাপদ ও আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি নিশ্চিত করা। এখন এসব টিউবওয়েল থেকে সুপেয় পানির পরিবর্তে গরম ও লবণাক্ত পানি উঠছে। যা ব্যবহারে ডায়রিয়া, চুলকানিসহ নানা রোগবালাই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ট্যাপগুলা থেকে যে পানি বের হয় তা অনেক গরম। পানি বের হওয়ার পর ম্যাচ দিয়ে আগুন ধরানো যায়।

এসব কল থেকে গরম পানির পাশাপাশি বের হচ্ছে বাতাস। পানির কাছে দিয়াশলাই জ্বালালেই জ্বলে উঠছে আগুনের শিখা, এতে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় একজন বলেন, ‘এই পানি খাইলে ডায়রিয়া হচ্ছে, পেটের ব্যথা হচ্ছে। অনেক মানুষ, আমার ছেলে-মেয়ে অনেকদিন অসুখে ভুগছে।’

আরও পড়ুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পানির দুর্ভোগ দূর করতে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বসানো ছাড়া এ সমস্যা দূর করা সম্ভব নয় বলে জানায় পৌর কর্তৃপক্ষ। দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে- এমনটাই দাবি এ কর্মকর্তার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১,০০০ গভীর ফিটে যে আমাদের তিনটি ডিপ টিউবওয়েল আছে সেটা হলো অনুসন্ধানী ডিপ টিউবওয়েল। এটা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, তারা চিন্তা করেছিলেন ১২০ ফিটে যে পানিটা পাওয়া যাচ্ছে, সেটাতে আয়রন-আর্সেনিক থাকার কারণে পানি ব্যবহার করতে পারছে না। তার জন্যই ১,১০০০ ফিটে গিয়েছিলেন। যাওয়ার পর দেখছেন পানি গরম এবং লবণাক্ত।’

চাঁপাইনবাগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার সরকার বলেন,‘আমাদের এখানে একটা প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে অলরেডি, যে প্রজেক্টটা আমাদের এখন একনেকেই আছে। এ প্রজেক্টটা পাস হলে সেখানে আমাদের নদীর পানি তুলে, বিশুদ্ধ করে পাইপলাইনে সরবরাহ করা হবে। এটা আমাদের এবং পরবর্তীতে আমাদের এ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতে যতগুলো কাজ হবে, মোটামুটি সবগুলো সারফেস ওয়াটার বেস কাজ হবে এভাবেই আমরা প্ল্যান করছি।’

অন্যদিকে, দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উপজেলা প্রশাসনের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন বলেন, ‘বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ আমার অন্যান্য যে দপ্তরগুলো আছে তাদেরকে জানাব এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব।’

সাধারণ পানিতে ক্লোরাইডের মাত্রা প্রতি লিটারে ১৫০ থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম। কিন্তু এসব পানিতে মাত্রা বেড়ে ১২৮০ মিলিগ্রাম ছড়িয়েছে। যা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

জেআর