নিহত আব্দুল বারিকের স্ত্রী মারুফা খাতুন বলেন, ‘গতকাল (রোববার, ২৪ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়। তখন বাবার বাড়িতে ছিলাম। কথা ছিলো ব্যবসা থেকে ফিরে একসঙ্গে শ্বশুর বাড়ি যাবো। কিন্তু তার সঙ্গে আমার আর বাড়ি যাওয়া হলো না।’
একই অবস্থা জেলার মান্দা উপজেলার পাকুড়িয়া ও মজিদপুর গ্রামের। রাজেন্দ্রবাটি এক গ্রামেই অন্তত ৭ জন মারা যায়। দুর্ঘটনায় কারো বাবা, কারো, স্বামী ও সন্তান আবার কারো ভাই মারা যায়।
নিহতরা হলেন- রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল বারিক (২২), তার চাচা আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা (৪০), সাকিম হোসেনের ছেলে সাগর হোসেন (২২), আকব্বর আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (২০), সুলতান মাহমুদের ছেলে তারেক রহমান (১৮), শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল আলম (২৮), পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে মাইনুল ইসলাম (২৮) ও তার ভাই গিয়াস উদ্দিন (২২)। হোসেনপুর গ্রামের জাফের আলীর ছেলে মাইনুল ইসলাম (৩৫) সহ ১৩ জন।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়- নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি, পাকুড়িয়া ও হোসেনপুর দরিদ্রপ্রবণ গ্রাম। এসব গ্রামের মানুষ জীবিকার তাগিদে নোয়াখালী ও ফেনি জেলার বিভিন্ন গ্রামে ফেরি কর হরেক মালের ব্যবসা করেন।
এসব গ্রাম থেকে শতাধিক মানুষ ওই জেলায় গিয়ে কেউ অন্তত ১৫দিন, ২০ দিন, ২৫ দিন বা ১ মাস ব্যবসা করতো। এরপর তারা ভাল একটা আয় করে গ্রামে আসত। কিছুদিন গ্রামে থেকে আবার ব্যবসার জন্য যেতো।
সবশেষ গত ২০-২৫ দিন আগে তারা নোয়াখালী যায়। পরিবারের সঙ্গে ঈদ উপভোগ করতে কিছু টাকা বাঁচাতে একটি ট্রাক যোগে ২৬জন বাড়ি ফিরছিলো। পথিমধ্যে সোমবার ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে রডবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে চাপা পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
মান্দা উপজেলার নির্বাহী অফিসার আখতার জাহান সাথী বলেন, ‘নিহতের স্বজনরা ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছেন। যেহেতু অনেকের মুখমণ্ডল চিনতে একটু সমস্যা হচ্ছে, এ কারণে মরদেহ বুঝে নিতে দেরি হচ্ছে।’
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। নিহতদের বিষয়ে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।’





