নিহত মনিকা আক্তার (৩৮) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগির কামারদিয়া এলাকার ফুলচান মিয়ার স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী।
অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসাগত অবহেলা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার অবনতি হলে রোগীকে ঢাকায় নেয়া হয়। পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এছাড়া এ ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ৫ লাখ টাকায় সমঝোতা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্বজনরা জানান, গত বুধবার (১৩ মে) রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালে মনিকার অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করা হয়। অপারেশনে সার্জন ছিলেন ডা. মো. জিয়াউর রহমান এবং এনেস্থিসিয়া চিকিৎসক ছিলেন ডা. নাসিম উদ্দিন। তবে অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন বা প্রি-এনেস্থিসিয়া চেকআপ করা হয়নি।
অপারেশনের পরদিন থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রথমে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর কারণসংক্রান্ত মেডিকেল সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা হয়, অপারেশনের পর গুরুতর সংক্রমণ বা সেপসিস তৈরি হয়। পরবর্তীতে কিডনি বিকল, শরীরে এসিড বৃদ্ধি, রক্ত জমাটের সমস্যা এবং রক্তচাপ কমে গিয়ে হাইপোভোলেমিক শকে আক্রান্ত হন রোগী। এক পর্যায়ে হৃদযন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। তবে স্বজনদের দাবি, রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন এবং অ্যাপেন্ডিসাইটিসে তেমন জটিলতা ছিলো না।
আরও পড়ুন:
নিহতের ভাতিজা নিহাদ হোসেন জানান, অপারেশনের পরদিন সকালেই রোগীর হাত-পায়ে রক্ত জমাট বাঁধা ও শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কখনো ডেঙ্গু, কখনো পানিশূন্যতার কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্ষুব্ধ স্বজনরা ইউনাইটেড হাসপাতাল ঘেরাও করেন। এসময় হাসপাতালের পরিচালক আবু রায়হান আল বেরুনী ওরফে রাজা দফায় দফায় স্বজনদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক আবু রায়হান আল বেরুনী রাজা বলেন, ‘সদর হাসপাতালে সব টেস্ট করা হয়েছিলো এবং ফিট সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছিলো।’
তবে অপারেশনের আগে প্রি-এনেস্থিসিয়া চেকআপ কেন করা হয়নি, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব ডাক্তাররা জানেন।’
একই হাসপাতালে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর টনসিল অপারেশনের পর জেসমিন আক্তার নামে আরেক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় আসে। এ ঘটনাতেও এনেস্থিসিয়া চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ উঠেছিলো।





