রাবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ভিসি কার্যালয়ে ছাত্রদলের তালা

ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন
ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন | ছবি: এখন টিভি
0

নিয়োগসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) উপাচার্য ড. আতিয়ার রহমানের অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ভিসি কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে শাখা ছাত্রদল। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ছাত্র সংগঠনটি। তবে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ভিসিবিরোধী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ, পরীক্ষা ও রেজাল্ট সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভিসি।

আজ (মঙ্গলবার, ৫ মে) রাবিপ্রবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে করে ছাত্রদলের নেতারা এই কর্মসূচি পালন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ভিসির বিরুদ্ধে লিখিত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন অর্ণব, সদস্যসচিব জিসান আহমেদ। এসময় যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম জয়, সাম শাহারিয়ার, সাজ্জাদ হোসেন তুসার, মো. সাঈদসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নাসির উদ্দীন অর্ণব বলেন, ‘বর্তমান ভিসি যোগদানের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পারিবারিক ও রাজনৈতিক আখড়ায় পরিণত করেছেন। মেধা ও যোগ্যতাকে তিনি পদদলিত করে নিয়োগ জালিয়াতি, স্বজনপ্রীতি, আর্থিক অনিয়ম ও জুলাই বিপ্লবের আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন। ছাত্রদল রাবিপ্রবি শাখা এই দুর্নীতির পাহাড় ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে আজ সরব হতে বাধ্য হয়েছে।’

আরও পড়ুন:

অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নিয়োগ জালিয়াতি ও মেধার হত্যাকাণ্ড করেছেন ভিসি। যেমন— একজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে জালিয়াতির চরম সীমা লঙ্ঘন হয়েছে। এক প্রার্থী গবেষণায় পাঁচ নম্বর পেয়ে মোট স্কোর ৭১.৭০ থাকা স্বত্বেও তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে গবেষণায় শূন্য পাওয়া সিভাসু শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে অবৈধভাবে নম্বর বাড়িয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষক নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্প, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল তছরুপসহ ক্ষমতার অপব্যবহার ও জামায়াত শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন ভিসি।’

কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে নাসির উদ্দীন বলেন, ‘স্বৈরাচার ভিসিকে অপসারণ অথবা পদত্যাগ করতে হবে। আজ থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা ভিসি কার্যালয় ও প্রশাসনিক দপ্তরে কোনো কার্যক্রম চলবে না। তবে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ভিসিবিরোধী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও রেজাল্ট সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবন নিয়ে কোনো ছিনিমিনি আমরা বরদাশত করবো না।’

আরও পড়ুন:

এরপরই ভিসি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত কক্ষ খালি করার সময় বেধে দিয়ে মাইকিং করেন। কর্মকর্তারা বেরিয়ে গেলে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক কক্ষে তালা না ঝুলিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলেও আন্দোলনকারীরা কর্ণপাত করেননি। তবে এসময় ভিসি কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।

রাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব জিসান আহমেদ বলেন, ‘শুধু আমাদের ভিসি অফিস বন্ধ থাকবে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত। যেহেতু সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে, সেহেতু সরকারের উচিৎ হবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভিসিকে অপসারণ করা। যদি অপসারণ না করতে পারে তাহলে রাবিপ্রবি ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের আপামর শিক্ষার্থী এবং রাঙামাটির অভিভাবকদের নিয়ে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।’

তবে এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ঢাকায় একটি প্রোগ্রামে রয়েছি। আমি থাকা অবস্থায় কেউ এসব অভিযোগ তোলেনি। তাছাড়া ভিসির একার পক্ষে কোনো অনিয়ম দুর্নীতি করার সুযোগও নেই। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

এসএস