মেরামত হয়নি ভাঙা বাঁধ, ফের বন্যার শঙ্কায় ফেনী

ভাঙা বাঁধ
ভাঙা বাঁধ | ছবি: এখন টিভি
0

২০২৪ ও ২৫- টানা দুই বছরের বিপর্যয়কর বন্যার ক্ষত এখনও কাটেনি ফেনীবাসীর। গেল বছরের বন্যায় ভেঙে যাওয়া বাঁধের বেশ কয়েকটি জায়গায় এখনো হয়নি মেরামত। চলতি বছরও প্লাবন ও বন্যার শঙ্কায় জেলার লাখো মানুষ। টেকসই বাঁধ হয়নি- এমনকি মেরামত কাজ নিয়েও উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। যদিও ভিন্ন সুর পাউবোর।

২০২৪-২৫ এর ভয়াবহ বন্যায় ডুবেছে এই জনপদ। কর্তৃপক্ষ বলছে, কোটি টাকার কাজ হয়েছে। যদিও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ।

সীমান্তবর্তী পরশুরাম উপজেলার সিলোনিয়া নদী তীরের গ্রাম মির্জানগরের মনিপুর। দুই পাড়ের প্রায় ১০ হাজার মানুষ গেলো দুই বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফের বর্ষা মৌসুম চলে এলেও এখনো মেরামত হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলো। বৃষ্টি আর উজানের পানি ঢুকলেই প্লাবিত হবে ফসল, ঘরবাড়ি ও পশুপাখির খামার। স্থানীয়দের অভিযোগ-বারবার বলেও মিলছে না কোনো প্রতিকার।

স্থানীয় একজন বাসিন্দা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড বলতেছে তারা বাঁধগুলো মেরামত করছে, বাঁধগুলো তারা সংস্কার করছে। কিন্তু এই যে আমার পিছনে যে বেড়িবাঁধটা দেখছেন এটা সিলোনিয়া নদীর একটি বেড়িবাঁধ। এটা ২৪ সালের আগস্ট মাসের বন্যায় ভেঙেছিল এখন পর্যন্ত এই বাঁধটি মেরামত করা হয়নি। এ ধরনের অসংখ্য জায়গা আছে যেগুলো এখন পর্যন্ত মেরামত করা হয়নি।

অপর এক বাসিন্দা বলেন, আমাদের গত দুই বছরে বন্যায় ক্ষতি করছে। এখনও আমাদের এই বাঁধগুলো ঠিক হয় নাই। এখন যদি ঠিক না করেন, তাইলে আমাদের এই ধান, ফসলপাতি, আমাদের ঘরবাড়ি এগুলা সব নষ্ট হয়ে যাবে ইন্ডিয়ার পানি নামলে।

মুহুরি, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৯৬টি এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৪৩টি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এতে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। গেলো বন্যার ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি বাঁধের কাজ। ফুলগাজী-পরশুরাম অংশের অর্ধশতাধিক স্থান এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দ যা এসেছে- কাজ হয়নি তার অর্ধেকও। মাটি দিয়ে নয়, নদী থেকে বালু তুলে দায়সারা মেরামত করা হয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ১২ কোটি ৮১ লাখ টাকার কাজ এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার কাজ হয়েছে। এছাড়াও, বিশ্বব্যাংকের বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় ২৪ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আর মুহুরি-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের জন্য ১ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার প্রকল্পও একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ পেয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শিহাব আহাম্মেদ বলেন, সরকারের প্রায়োরিটি ভিত্তিতে এটা আশা করি অল্প কিছুদিন মানে নেক্সট কিছু একনেকের মধ্যে এটা আমরা ইনশাআল্লাহ একনেকে উপস্থাপন করতে পারবো। আশা করি প্রকল্পটা পাশ হয়ে যাবে। তারপরে ফেনীবাসীর যে টেকসই বাঁধের যে চাওয়াটা এটার প্রসেস শুরু হবে আশা করি।

মুহুরি, কহুয়া ও সিলোনিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দৈর্ঘ্য ১২২ কিলোমিটার। এই বাঁধ ভাঙা-গড়ার চক্রে প্রতি বর্ষায় মানুষ হারাচ্ছে তাদের সম্পদ আর জীবন। এ অবস্থার স্থায়ী সমাধান চায় নদী তীরের মানুষ।

ইএ