গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সারাদেশের মতো নীলফামারীতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, কখনো ২০০, কখনো ৩০০, আবার কখনো ৫০০ টাকার ফুয়েল নিয়ে চলছেন বাইকাররা। চাকরিজীবীরা ছুটি নিয়ে, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা পর সংগ্রহ করছেন তেল।
যদিও ফুয়েল স্টেশনগুলোতে জানা যায় ভিন্ন কাহিনী। রেশনিং পদ্ধতিতে পাম্পগুলোতে তেল দিলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে এখন। আগে দিনে বিক্রি হতো দেড় থেকে দুই হাজার লিটার, এখন মাত্র ৩ থেকে ৬ ঘণ্টায় সমপরিমাণের চেয়েও বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে।
খাদিজা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সুব্রত কুমার দাস বলেন, ‘নরমালি আমাদের এখানে প্রতিদিন পেট্রোল-অকটেন ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ লিটার বিক্রি হতো। এখন মনে করেন ৪-৫ হাজার লিটার যাই পাই ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়।’
আরও পড়ুন:
তাহলে এত পরিমাণ ফুয়েল যাচ্ছে কোথায়? প্রত্যেকদিন আলাদা আলাদা পাম্পে একই মুখ বারবার দেখা যাচ্ছে। এদের কেউ বাড়িতে তেল মজুদ করছেন, কেউবা বেশি দামে বিক্রি করছেন গ্রামের দিকের খোলা বাজারে। আর তেলের লাইনে প্রতিদিনই ঘটছে মারামারির ঘটনা। এর পেছনে প্রশাসনের অবহেলাকেই দায়ী করছেন ফুয়েল স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নীলফামারীর ভাই ভাই ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আকতারুজ্জামান সাবু বলেন, ‘তেল নিচ্ছে, এরপর সাইডে যেয়ে টাংকি খালি করছে। আমাদের চোখের সামনে কয়েক জায়গায় দেখেছি। এসব তেল আবার বিভিন্ন দোকানে ৩০০ টাকা লিটার বিক্রি করছে। আর যারা তেল নিচ্ছে তারা শুধু তেলই নিচ্ছে অন্য কোনো কাজ নেই তাদের।’
চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহ আলম বলেন, ‘এখন এমন একটা অবস্থা তৈরি হচ্ছে, কেউ সংকট তৈরি করছে কেউ রেখে দিচ্ছে। আর বাস্তবে যাদের দরকার তারা পাচ্ছে না।’
ফুয়েল কার্ড চালু হলে এই বিড়ম্বনা কিছু হলেও কমবে বলে মনে করছেন পাম্প সংশ্লিষ্টরা। তবে, প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই বলে মত সবার।





