মে’তে আসছে অপরিশোধিত জ্বালানির প্রথম চালান; উৎপাদনে ফিরবে ইস্টার্ন রিফাইনারি

চট্টগ্রাম বন্দর ও ইস্টার্ন রিফাইনারি
চট্টগ্রাম বন্দর ও ইস্টার্ন রিফাইনারি | ছবি: এখন টিভি
0

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে আসছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রথম চালান। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরে এক লাখ টন তেল বোঝাইয়ের পর এমটি নিনেমিয়া নামের জাহাজটি আজ ভোরে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে। তেলের এ চালান এলেই কাঁচামালের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি আবার উৎপাদনে ফিরবে।

মে মাসেই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে আরও দুটি জাহাজ। স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি দামে এসব তেল কেনা হলেও জ্বালানির সরবরাহ সংকট কাটাতে এসব ক্রুড অয়েল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরিশোধিত তেলের জন্য পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্যর উপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ। বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিশোধন করে বাজারজাত করে ইস্টার্ন রিফাইনারি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি আটকে দিলে বন্ধ হয় অপরিশোধিত তেল আমদানি।

এতে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির এক লাখ টনের ক্রুড অয়েলের জাহাজ। ফলে স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামেই বেশি করে পরিশোধিত তেল কিনতে হচ্ছে সরকারকে। এদিকে, মজুত তেল দিয়ে টেনেটুনে প্রায় দেড় মাস চালালেও অপরিশোধিত তেল সংকটে ১৩ এপ্রিল একমাত্র তেল শোধনাগারে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল দুটি ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়।

অবশেষে যুদ্ধ শুরুর ৫০ দিন পর বিকল্প পথে লোহিত সাগর দিয়ে আমদানি করা হচ্ছে ক্রুড অয়েল। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল বোঝাইয়ের পর ভোরে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজটি। পৌঁছাবে মে'র প্রথম সপ্তাহে। এতে আবার পুরোদমে উৎপাদনে ফিরবে ইস্টার্ন রিফাইনারি। স্বস্তির খবর দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আগামী মে মাসেই বন্দরে ভিড়বে আরও দুটি জাহাজ।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘আমরা তিনটা কার্গোর কথা বললাম, তিন লাখ টন।’

এদিকে, জ্বালানি সংকট নেই বললেও সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সড়ক ও নৌপথে পণ্য পরিবহণে ভোগান্তি কাটছে না। বেড়েছে পণ্য পরিবহণ ব্যয়। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় বহিনোর্ঙরে পণ্য খালাস ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহণে সংকট বেড়েছে।

লাইটারেজ জাহাজ মালিক শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মোট ১২০টা জাহাজ চট্টগ্রামে বসা আছে তেলের সংকটের জন্য। ম্যানেজ করে করে যাচ্ছে, কিন্তু আশানুরুপ পাচ্ছে না। সরকার তেলের রেট বাড়িয়েছে তেল পাওয়া দরকারম, কিন্তু তাও পাওয়া যাচ্ছে না।’

বর্তমানে বহির্নোঙরে প্রায় ৮০টি জাহাজ পণ্য খালাসের জন্য অবস্থান করলেও চাহিদা অনুযায়ী লাইটারেজ পাচ্ছে না। ফলে খালাসে বিলম্বের কারণে ডেমারেজ দিতে হচ্ছে আমদানিকারককে।

এএইচ