গতকাল (শনিবার, ১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী এ ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আম বাগান। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক গাছের ডাল ভেঙে পড়ে, কোথাও কোথাও পুরো গাছ উপড়ে গেছে। এতে আমের পাশাপাশি লিচুসহ অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার আম চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল গভীর রাতে হঠাৎ করে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে আমার আম বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় অনেক আম গাছ শিকড়সহ উপড়ে গেছে, আবার অনেক গাছের বড় বড় ডাল ভেঙে পড়েছে। গাছে থাকা অসংখ্য কাঁচা আম ঝড়ে মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এত বড় ক্ষতির মুখে পড়ে এখন আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’
আরও পড়ুন:
শ্যামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আসরাফ আলী বলেন, ‘৫ বিঘা জমিতে আমি আম চাষ করেছি। মৌসুমের শুরুতে গাছে ভালোই গুটি এসেছিল, ফলনেরও বেশ আশা ছিল। কিন্তু এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন পিছুই ছাড়ছে না। কয়েকদিন আগে শিলাবৃষ্টিতে আমার বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক আম তখনই ঝরে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। সেই ক্ষতি সামলে উঠার আগেই গত রাতে আবারও কালবৈশাখী ঝড়ে গাছে থাকা প্রায় সব আম পড়ে গেছে। এখন পুরো বাগান প্রায় খালি হয়ে গেছে। এত ক্ষতির পর সামনে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, তা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ইয়াছিন আলী বলেন, ‘জেলার পাঁচ উপজেলায় গড় বৃষ্টিপাত ১৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে সদর উপজেলায়, ২০ মিলিমিটার। ৫ উপজেলাতেও ঝড় হলেও আমের ক্ষতি হয়েছে শুধু শিবগঞ্জ উপজেলায়। এ উপজেলার ৪ হাজার ৯০০ হেক্টর জমির আম বাগান ঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও কালবৈশাখী ঝড়ে কলা, ভুট্টা, বোরোধানসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে।’
অন্যদিকে ঝড়ের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও টানা ৮ থেকে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকে। ঝড়ো হাওয়ায় বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়া এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। এতে করে রাতভর অন্ধকারে থাকতে হয় অনেক এলাকায়, ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।





