কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধে আবারও ভাঙন; আতঙ্কে কয়েকশ পরিবার

কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধের পাশে এলাকাবাসীর অবস্থান
কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধের পাশে এলাকাবাসীর অবস্থান | ছবি: এখন টিভি
0

রাত নামলেই আতঙ্ক আরও ঘনীভূত হয়। কপোতাক্ষ নদের গর্জন শুনলেই বুক কেঁপে ওঠে স্থানীয়দের। শেষ ভরসার বেড়িবাঁধটি কখন ভেঙে পড়ে, এ আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকার কয়েকশ মানুষের।

গতকাল (শনিবার, ১৮ এপ্রিল) সকালে শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। শুরুতে ছোট পরিসরে ধস নামলেও তা দ্রুত বিস্তৃত হয়ে প্রায় ২০০ ফুট এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন ভাটার সময় ভাঙনের পরিধি বাড়ছে। নদীর তীব্র স্রোত ও মাটি সরে যাওয়ায় বাঁধটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

একাধিক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দিনের বেলা কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলেও রাত নামলেই ভয় বাড়ে। হঠাৎ করে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়লে সবকিছু তলিয়ে যেতে পারে।

ভাঙনকবলিত এই বেড়িবাঁধ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের একমাত্র সুরক্ষা ব্যবস্থা। এটি ভেঙে গেলে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে কৃষিজমি ও বসতভিটা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে, এমন উদ্বেগ জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘ভাঙনের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে প্রতাপনগরের বড় একটি অংশ পানির নিচে চলে যেতে পারে।’

আরেক বাসিন্দা আব্দুল খালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, প্রতিবারই ভাঙন দেখা দিলে অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে দায় সারার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় মানুষকে বারবার একই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার আলমগীর হোসেন নিশ্চিত করেন, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও অবহিত করেন, কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে ভুক্তভোগীরা জোর দিয়ে দাবি করেন, অস্থায়ী নয়, টেকসই ও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্যোগে পড়তে পারে পুরো এলাকা।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ইয়াসের সময় এই এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে পুরো এলাকা কার্যত উন্মুক্ত জলাধারে পরিণত হয়। প্রায় এক বছর ধরে লোকালয়ে নিয়মিত জোয়ার-ভাটার লবন পানি ওঠানামা করে, ফলে বসতভিটা, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। পরে স্থানীয়রা বাঁধ মেরামতে ব্যর্থ হলে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাঁধটি সংস্কার করা হয়।

এএইচ