লোডশেডিংয়ে কমছে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির গতি, দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা

ফ্যানের বাতাসে আলু সংরক্ষণ করা হচ্ছে
ফ্যানের বাতাসে আলু সংরক্ষণ করা হচ্ছে | ছবি: এখন টিভি
0

দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কমছে উত্তরের অর্থনীতির গতি। জ্বালানি সংকটের মধ্যেই লোডশেডিং নিয়ে চরম দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা। লোডশেডিংয়ে একদিকে হালকা প্রকৌশল শিল্পের উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে, অন্যদিকে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ নিয়ে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। বিদ্যুৎচালিত বাহনের সংখ্যা বাড়ায় বিকল্প চিন্তার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

উৎপাদিত আলু তোলার মৌসুম শেষ হলেও এখনো হিমাগারে যায়গা দেবার অপেক্ষায় বস্তাবন্দী আলু সংরক্ষণ করা হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত ফ্যানের বাতাসে। তবে ব্যাপক লোডশেডিং সে চেষ্টায়ও বাধা।

জেলার ৪০টি হিমাগারে আকার ভেদে দেড় থেকে আড়াই লাখ বস্তা আলু ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। যার জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে, তাতে দুশ্চিন্তা বাড়ছে হিমাগার কর্তৃপক্ষের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কমেছে হালকা শিল্পেও। কেবল সৈয়দপুরের হাজারখানেক ছোট বড় ও মাঝারি মানের শিল্পের কর্মীরা বসে থাকছেন দিনের বেশিরভাগ সময়। উৎপাদন কমায় প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে।

হিমাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, যদি এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকে তাহলে যে আলুগুলো আছে তা আমরা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারবো না।

বড় পুকুরিয়াতেও রয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি। তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা থাকলেও ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে দ্বিতীয় ইউনিট। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে কৃষি সেচ, হালকা প্রকৌশল, রপ্তানি খাত ও উৎপাদন শিল্পে।

আরও পড়ুন:

জ্বালানি সংকটে সড়কে পরিবহন কমায় বেড়েছে ইজিবাইক ও চার্জার রিকশা। বিদ্যুৎ সংকটকালে এসব বাহন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিকল্প ভাবনার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

শিক্ষক ও উন্নয়ন গবেষক মহুয়া শবনম বলেন, ‘ইলেক্ট্রিসিটি কনজিউমের সাথে সাথে কিন্তু আমরা স্বাস্থ্যকর যে একটা ভালো দিক সেটাও পেতে পারি যদি আমরা এ ধরনের ইজিবাইক বলেন বা ইলেক্ট্রিসিটি নির্ভর পণ্যগুলো থেকে একটু সরে আসতে পারি।’

শিক্ষক ও গবেষক উমর ফারুক বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি সবসময়ই আমাদের জন্য এক ধরনের হুমকি। কারণ এ প্রাকৃতিক সম্পদটা হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা যত ব্যবহার করছি এ প্রাকৃতিক সম্পদটা হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে আমাদের সৌরশক্তিতে যেতে হবে। সৌরশক্তিকে ব্যবহার করতে হবে। সৌরশক্তিনির্ভর যে অর্থনীতির কথা বলছি যেখানেও আমাদের যেতে হবে।’

এমন সংকটে বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করে সৌরশক্তি ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ সচেতন মহলের। আর হালকা, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবি ব্যবসায়ীদের।

ইএ