বরগুনা সদর উপজেলার লতাকাটা গ্রামের চাষি আলম মিয়ার গল্পটি এখন জেলার অধিকাংশ কৃষকের। লাভের আশায় এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন তিনি। ফলনও হয়েছিল আশানুরূপ। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টিতে তার সব স্বপ্ন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে।
আলম মিয়া বলেন, ‘এখন লাভের আশা তো দূরের কথা, খরচ আর এনজিওর ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, সেই চিন্তায় চোখে অন্ধকার দেখছি। কয়েকদিন ধরে বাইকের এখানে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’
গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টিতে মাঠে পানি জমে যাওয়ায় তরমুজে পচন ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ওপর বিষফোড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজেল ও পরিবহন সংকট।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেল সংকটের কারণে ট্রাক ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ফলে দেশের বড় পাইকারি বাজারগুলোতে সময়মতো পণ্য পাঠানো যাচ্ছে না। পাইকারদের দেখা না মেলায় স্থানীয় বাজারে তরমুজের দাম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
আরও পড়ুন:
মাঠে অবিক্রিত ফসলের পাহাড় আর ঋণের বোঝা নিয়ে দিশেহারা চাষিরা এখন শুধুই অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছেন। অনেক চাষি জানান, দ্রুত পানি না সরলে এবং পরিবহন সচল না হলে তাদের সবটুকু পুঁজি শেষ হয়ে যাবে।
এদিকে কৃষি বিভাগ চাষিদের পাশে রয়েছে জানিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘তরমুজ পরিবহনের সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এছাড়া, সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে কৃষকরা যাতে হয়রানি ছাড়া ডিজেল পেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার প্রত্যয়নপত্র দেখিয়ে পাম্প থেকে কৃষকরা সহজেই প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন।’
জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা ছিলো সবার। কিন্তু ১২ হাজার ২৭৯ হেক্টর জমি আকস্মিক তলিয়ে যাওয়ায় প্রান্তিক চাষিরা এখন সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে না গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।





