কখন স্বজনরা মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরবেন তাও যেন অনিশ্চিত তাদের কাছে। কেননা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘটে অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা।
মরদেহের সঙ্গে থাকা মঞ্জু বেপারী আফসোস করে বলেন, ‘আনোয়ারা আমার শালী, আজ সে স্ট্রোক কইরা মইরা যায়, সেই কহনতে মরদেহ লইয়া বাবা বইয়া আছি এম্বুলেন্সের লাইগা—খবর নাই। ডাইবররা নাকি আন্দোলন করতাছে, আর কত কষ্ট করমু বাবা কন? মইরাও তো শান্তি নাই দেহি!’
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাস্তার পাশে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং করতে না দেয়ার প্রতিবাদে সোমবার দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অর্থাৎ এক ঘণ্টা ধরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেইটের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। এতে বন্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। মেডিকেলে রোগী আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে পড়লে চরম দুর্ভোগে পড়েন মুমূর্ষু ও সাধারণ রোগীরা।
আরও পড়ুন:
রাস্তা বন্ধের ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ এসে চালকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এক ঘণ্টা পর অ্যাম্বুলেন্স চালকরা রাস্তা ছেড়ে দিলেও দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রোগী পরিবহন করবেন না বলে অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ করে রাখেন তারা।
পরে প্রায় ৩ ঘণ্টা পর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শেষে আজকের মতো অ্যাম্বুলেন্স চালকরা তাদের ধর্মঘট স্থগিত করেন। আগামীকাল (মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ) বেলা ১২টায় চালকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠকের পর ধর্মঘটের বিষয়ে সিন্ধান্ত জানাবেন চালকরা।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিবিরুল ইসলাম এখন টিভিকে বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স চালকদের পোষাক, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখাসহ তাদের দাবি নিয়ে সিটি করপোরেশন এবং হাসপাতাল প্রশাসন আগামীকাল একটি মিটিং করবে। মিটিং শেষে সিন্ধান্ত জানা যাবে।’
তবে তারা সড়ক অবরোধ করবেন না বলে প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি।





