পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। এদিকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতুতে ৩৫ হাজার ৬৫৮ টি যানবাহন পারাপারে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গগামী ২০ হাজার ৭৫ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৫৮৩ টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ২০০ টাকা।
সরেজমিন মহাসড়কের নগরজালফৈ বাইপাস, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। কেউ আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা যাবৎ গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভ্যাপসা গরম ও ধুলাবালুতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষদের।
পাবনাগামী যুবক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি টাঙ্গাইলে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করি। ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে গেলো কোনো বাস পাইনি। এছাড়াও ধুলো-বালুতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’
সিরাজগঞ্জের রুমা বেগম বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জের ভাড়া সর্বোচ্চ একশ টাকা। আজকে ভাড়া চাচ্ছে ৩০০ টাকা। এছাড়াও ভ্যাপসা গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করি।’
আরও পড়ুন:
বগুড়ার মাদ্রাসার ছাত্র মো. হুমায়রা বলেন, ‘বাসের সিট ফাঁকা নেই। বাসের ভিতরে তিল ধরনের মতো জায়গা নেই। এছাড়াও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খোলা ট্রাক ও পিকআপে ঘরমুখো মানুষে ভরপুর।’
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘যানজট নিরসনে যমুনা সেতু পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশে আলাদা মোটরসাইকেলের লেনসহ ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপন স্থাপন করা হয়েছে। সেতুর উপর কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেই জন্য দুইটি রেকারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যানবাহনের চাপ বাড়লেও যানজট নেই।’
কালিহাতী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও কোনো যানজটে ভোগান্তি নেই। যানজট নিরসনে মহাসড়কের গুরত্বপূর্ণ এলাকায় সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।’ বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।





