এর মধ্যে ৫৫০ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, ১৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র্যাব, ১২০ বিজিবি, ১৫ এপিসি, তিনটি ডগ স্কোয়াড ও তিনটি হেলিকপ্টার রিজার্ভ অংশ নিয়েছে।
ভোর থেকেই জঙ্গল সলিমপুরের সব প্রবেশপথ ঘিরে ফেলে যৌথবাহিনী। আশপাশের সড়কে সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী। আকাশে টহল দেয় তিনটি হেলিকপ্টার। এরপর কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে জঙ্গল সলিমপুর ও অলিনগর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করে। কালভার্ট ভেঙে ফেলা এবং সড়কে ট্রাক রেখে চলাচল বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে এসব বাধা অতিক্রম করে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে যৌথবাহিনী। এ পর্যন্ত কয়েকজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কিছু অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অভিযান আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
আরও পড়ুন:
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেন, জঙ্গল সলিমপুর একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। এছাড়াও চট্টগ্রাম শহর ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের অপরাধীরা বিভিন্ন জায়গায় অপরাধ করে এখানে এসে এটিকে একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে। যেহেতু এটি একটি জঙ্গলাধীন এলাকা। এছাড়া এখানকার যে ভূমির অবস্থা তা কেন্দ্র করে এখানে কিছু ভূমি অপরাধী তৈরি হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে আমরা যৌথ বাহিনী একটি কর্মপরিকল্পনা করে এখানে অভিযান পরিচালনা করছি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরইমধ্যে সন্দেহপ্রবণ এলাকায় তল্লাশি করা হয়েছে। ওখানে কয়েকজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যেহেতু অনেক বড় এড়িয়া তাই কয়েকটি ভাগে ভাগ করে অভিযানটি শুরু হয়। যেহেতু অভিযান এখনো চলমান তাই এখনি বলা যাবে না কি পরিমাণ অগ্রগতি হয়েছে বা কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা কি পরিমাণ নিষিদ্ধ বস্তু আটক করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাহাড় কাটা, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং শহরে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের পর সন্ত্রাসীরা এই দুর্গম এলাকায় আশ্রয় নেয়। অনেক সময় রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে তারা আইনের হাত থেকে রেহাই পেয়ে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এলাকাটির বিভিন্ন প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিও রয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের এক সদস্য নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। এর আগে বিভিন্ন সময় সাংবাদিক, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে হামলার শিকার হয়েছেন।
এর আগেও কয়েকবার অভিযান চালানো হলেও পুরোপুরি সফল হওয়া যায়নি। তবে এবার বড় প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে যৌথবাহিনী। অভিযান শেষে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে স্থায়ীভাবে যৌথবাহিনীর একটি ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুরের পুরো এলাকা দুর্গম পাহাড়ে ঘেরা। এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ছিন্নমূল মানুষের প্রায় ২০ হাজার বসতি রয়েছে। ধারণা করা হয়, সেখানে প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস।





