চেউয়া শুঁটকি: অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও রয়েছে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

হাতিয়ার চেউয়া শুঁটকি
হাতিয়ার চেউয়া শুঁটকি | ছবি: এখন টিভি
0

নোয়াখালীর হাতিয়ায় চেউয়া মাছের শুঁটকি উৎপাদনে ব্যস্ত জেলেরা। তবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পরও জেলেদের অভিযোগ- সংরক্ষণাগার, পরিবহন ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কাঙ্ক্ষিত মূল্য থেকে বঞ্চিত তারা।

নোয়াখালীর হাতিয়ার বিভিন্ন চরাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার একর জমিতে গড়ে উঠেছে শুঁটকি মহল। মূলত এ অঞ্চলে সামুদ্রিক চেউয়া মাছের শুঁটকি তৈরি করা হয়। এতে সরাসরি যুক্ত প্রায় ২০ হাজার জেলে।

তবে সংরক্ষণাগারের অভাব, উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থার ঘাটতি ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা না থাকায় প্রায়ই লোকসানে পড়তে হয় জেলেদের। দীর্ঘদিন পর এবার অনেক মাছ পাওয়ায় লাভের আশা করছেন বলে জানান জেলেরা।

গবেষকরা বলছেন, এ অঞ্চলের মানুষের জীবনে চেউয়া মাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়াও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মাছটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

আরও পড়ুন:

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা একটি গবেষণায় দেখেছি তারা সারা বছর যে পরিমাণ মাছ খায়। তার অধিকাংশই চেউয়া মাছ। আমার কাছে এটাও মনে হয় সব চেয়ে কম দামে প্রোটিন যুক্ত খাবার হলো এই চেউয়া মাছ।’

পরিবহন ও স্টোরেজ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে জেলেদের আয় বাড়বে এবং দেশের ফিড শিল্পেও লাভবান হবে বলে মনে করেন এই মৎস্য কর্মকর্তা।

নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মাছটি একটু নরম হওয়াতে বেশি দিন স্টোরেজ করা যায় না। কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কিছুটা সমস্যা রয়েছে সেগুলো দূর করা গেলে জেলেদের ভাগ্য উন্নয়ন হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর চেউয়া শুঁটকির বাজারমূল্য শত কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। আধুনিক সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সহজ বাজারব্যবস্থা হলে এ সংখ্যা আরো ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেআর