জ্বালানি খাতে অস্থিরতা চলছে ভারতজুড়ে। দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে পেট্রোল, ডিজেল, সিএনজি ও বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। গেল মে মাসের মাঝামাঝিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি বেড়েছে সাড়ে ৭ রুপি করে। এছাড়া, সিএনজির দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৬ রুপি।
ঘনঘন বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বাড়ালেও দীর্ঘ সময় ধরে অপরিবর্তিত ছিল রান্নার গ্যাস এলপিজির দাম। গেল মার্চে এক ধাক্কায় এলপিজির দাম সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ৬০ রুপি বাড়ানো হয়েছিল। তিন মাস পর দ্বিতীয় দফায় সিলিন্ডারপ্রতি ২৯ রুপি করে এলপিজির দাম বাড়ালো সরকার। গ্যাসের নতুন এই দাম কার্যকর হচ্ছে রোববার থেকেই। এতে করে দেশটির প্রতিটি রাজ্যের বাড়ছে রান্নার গ্যাসের দাম।
রান্নার গ্যাসের পাশাপাশি বেড়েছে ৫ ও ১০ কেজি সিলিন্ডারের দামও। ৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৮ রুপি এবং ১০ কেজির দাম হয়েছে ৬৯১ রুপি। আর ১৪ কেজি ওজনের সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৯শ' রুপি করে। রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় চাপের মধ্যে পড়েছে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
এরইমধ্যে এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনে নেমেছে বহু মানুষ। তাদের দাবি, এলপিজির দাম দাম গ্রাহকদের নাগালের মধ্যে রাখার দাবি জানায় তারা।
দাম বৃদ্ধির পেছনে ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকাকে দায়ী করছে ভারত সরকার। সরবরাহ সংকটে ১৪ দশমিক ২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডার আমদানিতে সরকারের মোট খরচ হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭শ' রুপি। সরকার বলছে, এখনো একটি বড় অংশ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
বিজেপি নেতারা বলছেন, জ্বালানি খাতে গোটা বিশ্বই এক বড় সংকট ও প্রতিকূলতার অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে ভারতেও। এই অবস্থাকে সাময়িক সময়ে জন্য বলেও মন্তব্য করেনে বিজেপির এই নেতা।
এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় বিহারের বিজেপি সভাপতি দাবি করেন, অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ভারতে এলপিজির দাম অনেক কম রয়েছে।
এলপিজি গ্যাসের চাহিদার বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে ভারত। গেল ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। এই মূল্যবৃদ্ধির সম্পূর্ণ বোঝা গ্রাহক একা নয় বহন করতে হচ্ছে সরকারকেও।





