নাটোর সদর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত খাজুরা উচ্চ বিদ্যালয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ ভোটকেন্দ্রে অন্তত ২ হাজার ভোটার রয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তিনটি এবং ক্লাসরুমে একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে থাকলেও স্থানীয়রা এটিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।
স্থানীয়রা জানান, সিসি ক্যামেরা থাকার ফলে তারা আশা করছেন কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না। সিসি ক্যামেরা লাগানোকে স্থানীয়রা নিরাপদ ও ভালো উদ্যোগ হিসেবে মনে করছেন।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাশাপাশি শহরের ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায়ও বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। নাটোর শহরের সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র লালবাগ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রশাসনের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি। তবে মূল ফটকসহ পুরো কেন্দ্র আনা হয়েছে চারটি ক্যামেরার আওতায়।
শিক্ষকদের একজন বলেন, ‘এটি খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ উদ্যোগকে আমরা আমরা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি।’ অন্য আরেক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সবার গতিবিধি নজরে রাখতে পারব। মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে, বসে থেকেই বোঝা যাবে কোথায় কী হচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
নাটোর জেলার চারটি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ৫৬৬টি। এর মধ্যে ৩৩৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বানানো হয়েছে ভোটকেন্দ্র। এরইমধ্যে ৫০ শতাংশ কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
নাটোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলা থেকে তথ্য নিয়ে আমরা জানতে পেরেছি এরইমধ্যে ২৪৩টি কেন্দ্রে আমরা সিসি ক্যামেরা লগাতে সক্ষম হয়েছি। যেগুলো কেন্দ্রগুলোতে বাকি আছে সেগুলো সামনের মাসেই লাগানো হবে।’
নাটোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন বলেন, ‘শতভাগ কেন্দ্র সিসি ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। এরইমধ্যে ৫০ শতাংশ কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা আমরা এনসিওয়র করতে পেরেছি। বাকিগুলোর কার্যক্রম চলমান আছে।’
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য এসব সিসি ক্যামেরা স্থাপন স্বস্তিদায়ক হলেও রয়েছে বিপরীত চিত্রও। সিসি ক্যামেরার কোনটিরই নিয়ন্ত্রণ নেই নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের হাতে। তাই বিশৃঙ্খলা হলে সেটি কিভাবে মনিটরিং হবে, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।





