Recent event

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়া শুরু

ইরানের সামরিক মহড়া
ইরানের সামরিক মহড়া | ছবি: সংগৃহীত
0

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ নজরদারির কথা জানানো হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী ইরান। মঙ্গলবার জেনেভা বৈঠকের আগে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দ্রুত আলোচনা শেষ করতে তোড়জোড় শুরু করেছে তেহরানও। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এবারের আলোচনায় সব ধরনের বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে তেহরান।

বড় বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠছে হরমুজ প্রণালীর চারপাশ। দেখে মনে হবে সব শঙ্কাকে সত্যি প্রমাণ করে যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।

তবে যুদ্ধ নয়, সোমবার জলপথের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য সামরিক হামলা মোকাবিলায় তেহরানের সক্ষমতা কতটুকু তা পরীক্ষায় একটি সামরিক মহড়ার আয়োজন করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। মহড়া পরিদর্শনে এসে সন্তোষ প্রকাশ করেন আইআরজিসি প্রধান।

এদিকে, সামরিক সংঘাত এড়িয়ে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সমাধানে আসতে মঙ্গলবার ২য় দফায় জেনেভায় বৈঠকে বসবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল। এরইমধ্যে এতে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সোমবার মূল বৈঠকের আগে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গেও বৈঠকে বসেন আরাঘচি। এতে অনেক জটিল বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে এক এক্স বার্তায় জানান গ্রোসি। এছাড়া, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অন্যদিকে, জেনেভা আলোচনায় সরাসরি অংশ না নিলেও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার, এয়ার ফোর্সে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এটি নিশ্চিত করেন ট্রাম্প নিজেই।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকব। ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতা করা খুবই কঠিন কাজ। তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা না করায় গত বছর তেহরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংসে বোমারু বিমান পাঠাই। তবে আমি আশা করি, ইরান চুক্তির জন্য মুখিয়ে আছে।

এছাড়া, ইরান ইস্যুতে হাঙ্গেরিতে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন বিষয় হলেও, যুক্তরাষ্ট্র চায় আলোচনার টেবিলে দ্বন্দ্ব সমাধানের।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সবসময় সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তবে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কষ্টসাধ্য। কেননা তারা ভূ-রাজনীতির চেয়েও ধর্মতাত্ত্বিক সিদ্ধান্তকে বেশি প্রাধান্য দেয়। এরপরও আমরা আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছি।

গেল ডিসেম্বরে ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘিরে কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র চায় তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে। এছাড়া, আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত করার বিষয়েও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ওয়াশিংটন। তবে শুরু থেকেই ইরান বলে আসছে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়া অন্য কোনো ইস্যুতে আলোচনায় বসবেন না। এছাড়া, পরমাণু কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি সরে আসতেও সম্মত নয় তেহরান।

ইএ