মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ১০ দলীয় জোটের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। এখানে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমেদ বিল্লাল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিন্দন্দ্বীতা করছেন। ১০ দলীয় জোট থেকে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখানকার জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছেন। তার পক্ষে দলের কয়েকজন নেতা প্রতীক নিয়েছেন।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ বিল্লাল জানান, তিনিই একমাত্র ১০ দলীয় দলের বৈধ প্রার্থী, ঘড়ি প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করবেন। তিনি আরও জানান, আব্দুল মান্নানের বিষয়ে দলীয়ভাবেই সিদ্ধান্ত আসবে। তবে তিনি আশাবাদী আব্দুল মান্নান নির্বাচন থেকে সরে আসবেন এবং তার নেতৃত্বেই ১০ দলীয় জোট নির্বাচন করে ভোটে এ আসনে জয়লাভ করবে।
তবে আব্দুল মান্নান রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় তার মতামত পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
এদিকে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে ১০ দলীয় প্রার্থী নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রীতম দাস দু’জনই নিজেদের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবি করছেন। তবে এখানকার জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রব মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
শেখ নুরে আলম হামিদী নিজেকে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দাবি করে জানান, কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি ১০ দলীয় প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করার জন্য রিক্সা প্রতীক নিয়ে লড়বেন।
তিনি বলেন, ‘অন্যকেউ ১০ দলের প্রার্থী দাবি করলে সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়।’
এ বিষয়ে এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাস জানান, সবাই জানে অনেক আগে থেকে এনসিপি ৩০টি আসন পেয়েছে সেখানে তারও নাম আছে।
তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে অন্যান্য দলের ১৫টি আসন থেকে উন্নীত করে ২৩টি আসন দেয়া হয়, এতে করে শেখ নুরে আলম হামিদীও নির্বাচন করছেন। তবে এবিষয়ে আলোচনা চলছে। এ আসনটি ১০ দলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তবে এর স্বপক্ষে জোরালো কোনো বক্তব্য বা প্রমাণ মেলেনি।’
আরও পড়ুন:
প্রীতম জানান, তিনি এনসিপি ও ১০ দলের প্রার্থী হিসেবে শাপলা কলি প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে লড়বেন।
এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মহসিন মিয়া মধুও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
মৌলভীবাজারে ৪ আসনে কে কোন প্রতীকে লড়বেন
মৌলভীবাজার-১(বড়লেখা-জুড়ি)
বিএনপির নাসির উদ্দিন আহমেদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন (লাঙল), গণঅধিকার পরিষদের মো. আব্দুন নুর (ট্রাক), গণফ্রন্টের মো. শরিফুল ইসলাম (মাছ) এবং স্বতন্ত্র হিসেবে বেলাল আহমদ (কাপ-পিরিচ)।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া)
বিএনপির মো. শওকতুল ইসলাম (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. সায়েদ আলী (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান (ফুটবল), জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল মালিক (লাঙল), স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক খান (কাপ-পিরিচ), স্বতন্ত্র প্রার্থী এম জিমিউর রহমান (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল কুদ্দুস (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (কাঁচি) সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী।
আরও পড়ুন:
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম জিমিউির রহমান চৌধুরী দু’জনই ফুটবল মার্কা প্রতীক দাবি করলে লটারির মাধ্যমে নওয়াব আলী আব্বাছ খান ফুটবল মার্কা পান।
মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর)
বিএনপির এম নাসের রহমান (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নান (দাঁড়িপাল্লা), খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলাল (দেয়াল ঘড়ি) ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির জহর লাল দত্ত (কাস্তে)।
উল্লেখ্য, এ আসনে জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলাল মনোনীত হলেও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)
বিএনপির মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী (রিকশা), জাতীয় নাগরিক পার্টি ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবিদার প্রীতম দাস (শাপলা কলি), বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল), জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন (লাঙল) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. আবুল হাসান (মই) মার্কা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন।





