চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৮ লাখ মানুষের এ জেলায় অর্ধেকের বেশি নারী। তবে সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও বাস্তবতায় উন্নয়নের মূলস্রোতের বাইরে তারাই। নির্বাচন ঘিরে এবার নারী ভোটারদের ভাবনা একটু ভিন্ন।
শহরের ক্লাব সুপার মার্কেটে তিনবছর ধরে ক্যাফে পরিচালনা করছেন প্রজ্ঞা লিজা। নানা সীমাবদ্ধতায় ব্যবসা শুরু হলেও দক্ষ নারী কর্মীর সংকট তার জন্য চ্যালেঞ্জ।
প্রজ্ঞা বলেন, ‘যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক নারীদের নিয়ে চেষ্টা যেন করা হয়। নারীদের উন্নয়নে কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য কাজ যেন করা হয়।’
নারীরা শুধু ভোটার নন, তারা নেতা, উদ্যোক্তা ও সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী চালিকা শক্তি। তাদের ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় সামাজিক ও পারিবারিক বাধায় পিছিয়ে পড়ছে নতুন প্রজন্মের নারীরা।
আরও পড়ুন:
নারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘নারীবান্ধব সমাজ গঠনের জোড় দেবেন, আমরা সে রকমই প্রার্থী নির্বাচন করতে চাই এবারের নির্বাচনে।’
বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন জেলার প্রান্তিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা। কৃষি, পশুপালন ও হস্তশিল্পসহ শ্রমনির্ভর কাজে পুরুষের সমান কাজ করলেও তারা পাচ্ছেন অর্ধেক মজুরি।
নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের পর বাস্তবায়ন হয় না, এমন অভিযোগ গণমাধ্যম ও নারী উন্নয়ন কর্মীদের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ গণমাধ্যম কর্মী উম্মে আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ‘প্রার্থীরা প্রথমত নির্বাচন হওয়ার আগে সবাই বলে যে, আমরা সব সমস্যা সমাধান করে দেবো। কিন্তু নির্বাচন হওয়ার পর দেখা যায় সে সমস্যাগুলো নিয়ে কোনো কাজ করা হয় না।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারী কল্যাণ সমিতির শামসুন নাহার পলি বলেন, ‘সমাজ থেকে দেশ হবে। তার জন্য মেয়েদের পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকে। আমি চাই আমাদের যে সরকার আসবে, যে দলেরই আসুক কেন, তারা যেন মেয়েদের পাশে দাঁড়ায়।’
জেলায় মোট ভোটার প্রায় ১৪ লাখ, যার মধ্যে পুরুষ প্রায় সাত লাখ ১১ হাজার ও নারী ভোটার প্রায় সাত লাখ।





