বুলগেরিয়ার কর্মকর্তারা জানান, রাতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন আঘাত হানে। এর মধ্যে ক্রাপেটস গ্রামের উপকূলে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী এইচএস ডিগনিটি নামের পণ্যবাহী জাহাজটি ডুবে যায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা জানান, নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। একই রাতে মাল্টার পতাকাবাহী চেলসি ৩ নামের আরেকটি জাহাজে তিনটি ড্রোন আঘাত হানে। তবে সেই জাহাজের ১৫ জন ক্রুর (সাতজন ইউক্রেনীয় ও আটজন আজারবাইজানি) সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর আগে এক সপ্তাহ আগে একই এলাকায় আরেকটি ড্রোন হামলায় একটি জাহাজ ডুবে ১০ জন নাবিক নিখোঁজ হয়েছিলেন।
বুলগেরিয়া সরাসরি রাশিয়াকে অভিযুক্ত না করলেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী রুমান রাদেভ টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে বলেন, এ ধরনের হামলার ফলাফল মূলত ‘রুশ ফেডারেশনের পক্ষেই যায়’। দেশের ভৌগোলিক জলসীমার কাছে এমন আক্রমণকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দেন তিনি। এ ঘটনায় সোফিয়ায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত এলিওনোরা মিত্রোফানোভাকে তলব করা হলে তিনি দাবি করেন, রুশ প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তবে তিনি তৃতীয় কোনো পক্ষের উসকানির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউক্রেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘কৃষ্ণসাগর এখন ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের আরেকটি উত্তেজনার ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’ ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা অভিযোগ করেন, বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তাকে জিম্মি করতে এবং ক্ষুধার অস্ত্র তৈরি করতেই কৃষ্ণসাগরের নৌপথে আঘাত হানছে মস্কো। বুলগেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী দেশটির আকাশ ও সমুদ্রসীমার নজরদারি জোরদারে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন। জবাবে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী জোটের পূর্ব সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি সমন্বয় করা হবে।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এখন কৃষ্ণসাগরের বাণিজ্যিক নৌপথে তীব্র রূপ নিয়েছে। ইউক্রেনের বন্দরগুলোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক বোমাবর্ষণের কারণে কিয়েভ বাধ্য হয়ে দানিয়ুব নদীর অভ্যন্তরীণ বন্দর এবং ন্যাটোভুক্ত দেশ বুলগেরিয়া ও রোমানিয়ার উপকূলঘেঁষা নৌপথ ব্যবহার করছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউক্রেনও কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে রাশিয়ার শস্যবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।





