হান্স গ্রুন্ডবার্গ বলেন, সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে চলমান সংঘাতে অন্তত ৪৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হতাহতদের একটি বড় অংশই শিশু।
জাতিসংঘ দূত আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ইয়েমেনের ওপর প্রভাব ফেলছে এবং একইভাবে ইয়েমেনের সংঘাতও পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, 'আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌচলাচলের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রক্ষা করা অত্যন্ত যৌক্তিক বিষয়। তবে ইয়েমেন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগগুলো অবশ্যই দেশটির বাস্তবতা এবং সাধারণ মানুষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নিতে হবে।' যুদ্ধক্ষেত্রে সফলতা কখনো আলোচনার বিকল্প হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের মধ্যস্থতায় সহায়তার আহ্বান জানান।
বৈঠকে অংশ নিয়ে ইয়েমেনের জাতিসংঘ প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আলী ফাদেল আল-সাদি বলেন, হুথিদের তৈরি হুমকি এখন আর কেবল ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ কোনো সংকট নয়। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর অর্থায়ন, অস্ত্র ও প্রযুক্তির সরবরাহ বন্ধে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে অব্যাহত সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
এদিকে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার রিয়াদের উত্তরে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি হামলা চালানো হয়। এতে সৌদি আরবের তিন নাগরিক নিহত হন। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পারস্য উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ। সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল পররাষ্ট্র দপ্তর এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সৌদি আরবের জাতিসংঘ প্রতিনিধি আবদুল আজিজ আল-ওয়াসিল এই পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক সংঘাতের বিস্তার’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, হুথি বিদ্রোহীদের এমন তৎপরতার বিরুদ্ধে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। নিজেদের নিরাপত্তা কিংবা নৌচলাচলের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ইয়েমেনকে কোনোভাবেই হুমকির কেন্দ্র হতে দেয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।





-320x167.webp)