বাবা-মায়ের অপেক্ষায় প্রতিদিন বারান্দার গ্রিল ধরে পথের দিকে তাকিয়ে থাকে দেবাশীষ দত্তের কন্যা শিশু মহিমা।
তার শিশুমন হয়তো বিশ্বাস করে, ফিরবেন বাবা, সঙ্গে মা আর ছোট ভাইও। দেবাশীষ দত্ত পেশাজীবনে লিখেছেন কত মানুষের জীবনকাহিনী, সুখ-দুঃখের গল্প, তৈরি করেছেন অসংখ্য সংবাদের শিরোনাম। অথচ আজ সহকর্মীদেরই লিখতে হচ্ছে তাকে নিয়ে বিষাদের গল্প।
গত ৩ আগস্ট স্ত্রী, তিন বছরের ছেলে ও শ্বশুরকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরু যান দেবাশীষ। চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পথে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ওঠেন। সেখানেই মধ্যরাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান চারজনই।
দেবাশীষ দত্তের মেয়ে মহিমা বলেন, ‘বাবা-মা আসবে, আমি অনেক মিস করি। দেখি আর আসলো না। বাবা-মা, ভাইকে মিস করি।’
২৯ দিন পেরিয়ে গেলেও সন্তান হারানোর শোক কাটেনি দেবাশীষের বাবা-মা ও বোনের। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। দেবাশীষের একমাত্র মেয়ে মহিমার ভবিষ্যৎ, তার লেখাপড়া, ভরণপোষণ—সবকিছু নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় স্বজনরা। সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনকে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত ও সহকর্মীরা।
আরও পড়ুন:
দিলীপ দত্ত বলেন, ‘ছেলের বন্ধু-বান্ধব বা বড় ভাই থাক আর ছোট ভাইরাই থাক, এদের কাছে আমার একটাই বলা যে, তারা যেন যে অবস্থাতে হোক আমাদের সংসার চলার মতো গতি করে দেয়। সরকারের কাছেও আমার এইটাই অনুরোধ যে, আমরা যেন মাথা গুজার একটু ঠাঁই পাই।’
সহকর্মীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সাংবাদিককর্মীরা দল-মত নির্বিশেষে সব ভাবনা-চিন্তা, সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে থেকে এই পরিবারটির যাতে অন্ধকার মোচন হয় এবং তাদের একটা নিরাপদ জীবন যাতে নিশ্চিত করা যায়, সেই দায়িত্বটুকু কাঁধে নেয়া।’
সময়ে শোকের তীব্রতা কিছুটা কমলেও ছোট্ট মহিমার জীবনে বাবা-মা আর ভাইকে হারানোর শূন্যতা কখনোই পূরণ হবে না। একজন মেধাবী গণমাধ্যমকর্মীর বিদায়ে শুধু তার পরিবারই নয়, শোকাহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজও।




