নদী-খাল আর পুকুরে ঘেরা চাঁদপুর। অথচ এখানকার অনেকে জানে না সাঁতার। ফলে প্রতিনিয়তই পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে মানুষ। মৃত্যুতে শিশুদের সংখ্যা বেশি হলেও প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সংখ্যাও কম নয়।
চারদিকে নদী আর জলাশয়। কিন্তু শহরের অনেক শিক্ষার্থীই সাঁতার জানে না। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ জেলার একমাত্র সুইমিং পুলটি। তাই ইচ্ছে থাকলেও সাঁতার শেখার সুযোগ পাচ্ছে না তারা। তরুণ প্রজন্মের জীবন রক্ষায় স্কুল পর্যায়ে সাঁতার শেখানোর দাবি শিশু ও অভিভাবকদের।
স্থানীয় শিশুরা জানায়, সেখানে সাঁতার শেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেকেই সাঁতার জানে না। সাঁতার শেখার ব্যবস্থা করলে তাদের জন্য ভালো হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে, গত বছর জেলায় পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ২৪৫ জনের। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই জেলার ৮ উপজেলায় পানিতে ডুবে মারা গেছেন ১২১ জন। এর মধ্যে শুধু হাইমচর উপজেলাতেই মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের।
আরও পড়ুন:
পুকুরের পাশাপাশি মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীতে গোসল করতে গিয়েও অনেকেই পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে।
ভবিষ্যত প্রজন্মকে পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকে সাঁতার কাটা শেখানো গেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সিভিল সার্জন। আর দ্রুত বন্ধ সুইমিং পুল চালুর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সাঁতার শেখানোর উদ্যোগের কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন বলেন, ‘আমরা অনেক ডিজিজ নিয়ে কনসার্ন থাকি এই একটা জায়গা আমরা ওভারলুক করে যাই। স্বাস্থ্য বিভাগ শিক্ষা বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করলে এ সমস্যা দূর করতে পারব মনে করি।’
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘চাঁদপুর নদীকেন্দ্রিক এলাকা। নদী আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িত। এখানে যে সুইমিং পুল ছিলো তার সংস্কার কাজ চলছে। মাঝে কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিলো। এখন আবার শুরু হয়েছে। সেটি হয়ে গেলে আমরা ভালোভাবে সাঁতার শেখাতে পারবো।’
নদীমাতৃক জেলা চাঁদপুরে সাঁতার শুধু একটি খেলা নয়, জীবন বাঁচানোর দক্ষতা। তাই দ্রুত সুইমিং পুল চালু এবং শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।





