মধ্যপ্রাচ্য সংকট: হুতিদের ওপর হামলায় চীনা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলো রিয়াদ

সৌদি আরবের চীনা তৈরি ডিএফ-৩এ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
সৌদি আরবের চীনা তৈরি ডিএফ-৩এ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র | ছবি: সংগৃহীত
0

ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে চীনের তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে সৌদি আরব। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে ইয়েমেন সরকার ও হুতি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনাটি নিশ্চিত হলে এটিই হবে সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রকৃত কোনো যুদ্ধে প্রথমবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের নজির। ফোর্বসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ইয়েমেনের মাটিতে ডিএফ-১৫এ মডেলের চীনা ক্ষেপণাস্ত্রের মূল কাঠামো ও ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির ওয়ারহেড আলাদা হয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার উপযোগী হওয়ায় এটি ঠিক কোথায় আঘাত হেনেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। এর আগে সৌদি আরবের কাছে স্বল্পপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র থাকার তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানা ছিল না।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের হাতে এফ-১৫এসএ এবং ইউরোফাইটার টাইফুনের মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র থাকা সত্ত্বেও ভূগর্ভস্থ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পেছনে কৌশলগত কারণ রয়েছে। মূলত হুতিদের প্রধান মদদদাতা ইরানকে একটি কঠোর বার্তা দিতেই রিয়াদ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

সম্প্রতি লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হুতিদের বাধা, মক্কার কাছে ড্রোন হামলা এবং ইরাক থেকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনে হুতিদের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পেছনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) প্রত্যক্ষ নজরদারি রয়েছে।

আশির দশকে ডিএফ-৩এ এবং পরবর্তীতে ২০০৭ সালে ডিএফ-২১ মডেলের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেনে সৌদি আরব। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেনে স্বল্পপাল্লার ডিএফ-১৫এ নিক্ষেপ করে রিয়াদ কার্যত তেহরানকে সতর্ক করলো যে ড্রোন বা মিলিশিয়া হামলা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ইরানের অভ্যন্তরে আঘাত হানতেও তারা পিছপা হবে না।

এএম