বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন মার্ক কার্নি। ধারণা করা হচ্ছে, গত জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে তিনি যেভাবে বিশ্ব মোড়লদের অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, এই ভাষণেও তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। দাভোসে কার্নি সতর্ক করে বলেছিলেন, একাকী কোনো পরাশক্তির মুখোমুখি হলে ছোট বা মাঝারি দেশগুলোকে দুর্বল অবস্থান থেকে দরকষাকষি করতে হয়।
বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে ইইউ-এর প্রথম সহযোগী সদস্য করার ঐতিহাসিক প্রস্তাব দেন। ট্রাম্পের ক্রমাগত অর্থনৈতিক চাপ ও শুল্ক হুমকির কারণে কানাডা যখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে, ঠিক তখনই এই প্রস্তাব এলো।
এই পদক্ষেপের খবর পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনার শার্লটে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কানাডাকে ইইউ-তে নেয়ার বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘যদি ইউরোপের উদ্দেশ্য ভালো হয়, তবে ঠিক আছে। কিন্তু উদ্দেশ্য খারাপ হলে আমরা ইউরোপের ওপর খুব ভারী শুল্ক আরোপ করব।’ এমনকি ইউরোপের সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি। একই সঙ্গে কানাডাকে একটি ‘বাজে বাণিজ্যিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ঐতিহাসিকভাবে কানাডার অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যায় মার্কিন বাজারে। তবে ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ইঙ্গিতবাহী বক্তব্যের কারণে অটোয়া এখন আটলান্টিকের অপর পাড়ে ইউরোপের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ দিচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির গণ্ডি পেরিয়ে ইইউ ও কানাডার মধ্যে একটি ‘ভবিষ্যতের জোট’ গড়ে তোলা দরকার। আগামী ২৯ ও ৩০ অক্টোবর কানাডার মন্ট্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইইউ-কানাডা সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
কানাডার ইইউ-তে নিযুক্ত হবু রাষ্ট্রদূত জোনাথন উইলকিনসন স্পষ্ট করেন, কানাডা ইইউ-এর পূর্ণ সদস্যপদ চাইছে না, কারণ তাতে নিজস্ব সার্বভৌমত্বের কিছু অংশ ছেড়ে দিতে হয়। তবে তারা সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে ইউরোপের যতটা সম্ভব কাছাকাছি যেতে চায়।
ইতোমধ্যেই ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও সামরিক সমন্বয় শুরু করেছে অটোয়া। চলতি বছর তারা ইইউ-এর ১৫ হাজার কোটি ইউরোর (১৭ হাজার ৩০০ কোটি ডলার) সেফ প্রতিরক্ষা ক্রয় কর্মসূচিতে প্রথম অ-ইউরোপীয় দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বেলঁ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য কানাডা ও ইইউ উভয়কেই শক্তিশালী মার্কিন নেতৃত্ব ছাড়া একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থার কথা চিন্তা করতে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করছে।





