হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার একটি দৃশ্য
হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার একটি দৃশ্য | ছবি: সংগৃহীত
0

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে পারস্য উপসাগরে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের শঙ্কা, সমুদ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো ট্যাংকার ডুবে বা ফুটো হয়ে গেলে লাখ লাখ লিটার তেল ছড়িয়ে পড়বে সাগরের পানিতে। এর ফলে সামুদ্রিক মাছ, প্রবাল প্রাচীর এবং ম্যানগ্রোভ বন ধ্বংসের ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হবে। সংকট হতে পারে সুপেয় পানির।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকেই কেন্দ্রবিন্দুতে সামুদ্রিক পরিবহণ রুট হরমুজ প্রণালি। বৈশ্বিক তেল পরিবহণের এই জলপথ কার্যত অচল হওয়ায় জ্বালানি সংকট যেমন বাড়ছে তেমনি একে অপরের তেল ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চলানোয় পারস্য উপসাগরে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ।

মেরিন ট্রাফিকের তথ্য, বহু তেলবাহী জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরে আটকে আছে বা ধীরগতিতে চলেছে। এসব জাহাজে থাকা তেলের পরিমাণ বিশ্বের প্রতিদিনের মোট তেল চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশের সমান। কোনো একটি বড় ট্যাংকার আগুনে পুড়ে বা ডুবে গেলে এই বিশাল পরিমাণ তেল সমুদ্রে মিশে যাবে। আর সেখান থেকেই শুরু বিপত্তির।

আরও পড়ুন:

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এরই মধ্যে কয়েকটি হামলার জেরে সমুদ্রে তেল লিক হতে শুরু করেছে। এই তেল পানিতে ভেসে থাকায় সাগরের তলদেশে সূর্যের আলো ও অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারছে না স্বাভাবিকভাবে, ফলে মারা যাচ্ছে মাছ এবং ছোট সামুদ্রিক জীব। আবার ডানায় তেল জড়িয়ে যাওয়ায় উঠতে পারছে না অনেক সামুদ্রিক পাখি।

এছাড়াও পারস্য উপসাগরের প্রবাল প্রাচীর এবং ম্যানগ্রোভ বন, যেগুলো মাছের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে, সেগুলো চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

এছাড়াও, পারস্য উপসাগরের তীরবর্তী দেশগুলোতে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষের বাস। এদের খাবার পানির প্রধান উৎস হলো সমুদ্রের পানি শোধন করা। সমুদ্রের উপরিভাগে তেলের আস্তরণ জমা হলে শোধনাগারগুলোতে বিষাক্ত পানি প্রবেশ করার ঝুঁকি থাকে, যার ফলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে প্লান্টগুলো। এতে করে সুপেয় পানির সংকটে পড়বেন ওই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ।

এসএইচ