ইতালির কৃষিতে অবদান প্রবাসী বাংলাদেশিদের, সংগ্রাম-অর্জনে লিখছেন নতুন গল্প

ইতালিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাষ করা কিছু সবজি
ইতালিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাষ করা কিছু সবজি | ছবি: এখন টিভি
0

ইউরোপের দেশ ইতালির কৃষিখাতে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটিয়েছেন বাংলাদেশি খামারিরা। নিজস্ব পুঁজি ও সাহসিকতার ওপর ভর করে সবুজ প্রান্তরে আজ হাসছে বাংলাদেশি প্রবাসীদের স্বপ্ন। শুধু শস্য উৎপাদনই নয়, ইতালির খাদ্য সংস্কৃতিতেও যোগ হচ্ছে বাংলাদেশিদের এই নতুন দিগন্ত। ইতালিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই অভূতপূর্ব সফলতা, স্থানীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধি এবং তাদের প্রতিদিনের সংগ্রাম ও অর্জন জন্ম দেয় নতুন নতুন গল্পের।

পিৎজা আর পাস্তার দেশ ইতালির রোমের সবুজ মাঠজুড়ে সোনালি ফসলের হাসি। সুবিস্তৃত খামারগুলোতে উৎপাদিত হচ্ছে লাউ, শিম, আর মিষ্টি কুমড়ার মতো দেশি শাকসবজি; যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি হচ্ছে ইউরোপের অন্যান্য দেশে।

ইতালির কৃষিখাতে এমন নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন প্রবাসীরা। শুধু শস্য উৎপাদনই নয়, ইতালির খাদ্য সংস্কৃতিতেও যোগ হচ্ছে বাংলাদেশিদের এই নতুন দিগন্ত। মাঠজুড়ে ফসলের এই সাফল্য যেন আত্মবিশ্বাসের এক জ্বলন্ত প্রমাণ।

ইতালির এক প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতে এটাকে এগ্রি ট্যুরিজম করবো, যেখানে বাংলাদেশিরা আসবে। আমরা এর মাধ্যমে ইতালির মাটিতে ইতালিয়ানদের কাছে বাংলাদেশকে প্রেজেন্ট করতে চাই।’

শুধু শাক-সবজিই নয়, হাঁস-মুরগিসহ গৃহপালিত পশুর খামারও গড়ে তুলেছেন অনেক বাংলাদেশি উদ্যোক্তা। কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির জোরে, ইতালির মাটিতে তারা গড়ে তুলেছেন অনন্য এক সাফল্যের গল্প।

আরেক প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন ধরনের বাংলাদেশি শাক-সবজি উৎপাদন হচ্ছে। লাউ, জালি, পটল; বিভিন্ন ধরনের শাক— লালশাক, পুঁইশাক, ডাটাশাক, কলমিশাক, আলুশাক; তারপর আমরা ইতালির বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করে লন্ডনে এক্সপোর্ট করে থাকি। তারপর বিভিন্ন ইউরোপিয়ান কান্ট্রি জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন—এসব জায়গায় আমরা এক্সপোর্ট করে থাকি।’

তবে সফলতা থাকলেও কঠোর নিয়মকানুন ও বাজারজাতকরণের মতো কিছু চ্যালেঞ্জও আছে প্রবাসীদের কাছে। কিন্তু এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইতালির স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখছেন এই বাংলাদেশি খামারিরা।

এসএইচ