নরসিংদীতে শিশুর পা মুচড়ে দেয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন ও গ্রেপ্তার হওয়া চাচী
র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন ও গ্রেপ্তার হওয়া চাচী | ছবি: সংগৃহীত
0

নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাসের এক শিশুর পা মুচড়ে দেয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি চাচী ফারজানা আক্তার লতাকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-১১।

আজ (শুক্রবার, ১৭ জুলাই) রাতে নরসিংদীর আলীজন জুট মিলস এলাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নরসিংদীর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে র‍্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ফারজানা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে।

সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদী থানাধীন একটি দুই মাস বয়সী শিশুর পায়ে গুরুতর আঘাতের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটির চাচি রত্না বেগম ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত শিশুর একটি পা জোরে মুচড়ে দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। পরে শিশুটির মা কান্না শুনে দৌড়ে এসে অস্বাভাবিকভাবে শিশুটিকে কান্না করতে দেখেন।

ভিডিওটি দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালাতে থাকে।

র‍্যাব জানায়, তদন্তে আসামির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর রূপগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে মাধবদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ নিয়ে মামলায় অভিযুক্ত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে, মূল ঘটনার ২ দিন পর ১৩ জুলাই থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এটিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করা হয়। বলা হয় পা ভেঙে ফেলা হয়েছে। যদিও শিশুটির পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে কিন্তু পা ভেঙে ফেলার মত কোনো ঘটনা তৈরি হয়নি।

ঘটনাটি ঘটে, নরসিংদীর মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদি গ্রামে। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই গ্রামের সায়েবা বেগম ও জহিরুল হক জহিরের সন্তান। অপরদিকে মামলার এজাহার অনুসারে অভিযুক্তরা হলো- শিশুর চাচি লতা বেগম (৩২), লতার স্বামী কাউসার আহমেদ (৩৩) এবং লতার বাবা অর্থাৎ কাউসারের শ্বশুর আলমাছ মিয়া (৬০) ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, জন্মের পর থেকেই শিশুটি অসুস্থ থাকায় বিভিন্ন মেয়াদে হাসপাতালে ছিল। প্রায়ই ঘরে কান্না করত। বিষয়টি শিশুর মায়ের সন্দেহ হলে গোপনে ভিডিও ধারণের উদ্যোগ নেন। এরপরই পা মুচড়ে দেয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এছাড়াও প্রায়ই তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো বলে জানা গেছে।

এএইচ