আজ (শুক্রবার, ১৭ জুলাই) এক ‘বিশেষ সম্মেলনে’ নির্বাচিত হবেন বার্নহাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র থাকাকালে অঞ্চলটির স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি এই রাজকীয় খেতাব অর্জন করেন। লেবার আইনপ্রণেতাদের বিপুল সমর্থন পেয়ে তিনি নেতা নির্বাচিত হচ্ছেন।
এই আয়োজন মূলত একটি আনুষ্ঠানিকতা। সোমবার তিনি কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ব্রিটেনের নতুন নেতা হবেন। তার মন্ত্রিসভা এবং সরকার পরিচালনার নীতি সম্পর্কে জানতে দলের নেতা-কর্মীরা মুখিয়ে আছেন।
৫৬ বছর বয়সী বার্নহাম তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলবেন, তার সরকার হবে ‘প্রকৃতপক্ষে লেবার’। এই সরকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, জনগণের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, পুনঃশিল্পায়ন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার কাজ করবে।
তার বক্তব্যের অংশবিশেষ অনুযায়ী, তিনি ব্রিটেনকে ‘গত ৪০ বছর ধরে চলা পথ থেকে বেরিয়ে একটি নতুন পথ’ দেয়ার অঙ্গীকার করবেন। তার সরকার হবে ‘অগ্রাধিকার ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্দ্বিধায় লেবার। আমাদের সব কাজের কেন্দ্রে থাকবে মানুষ ও অঞ্চল।’
তবে বার্নহাম কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন, সে বিষয়ে এখনো অনেক কিছু জানার বাকি রয়েছে। গত মাসে ম্যাকারফিল্ড থেকে সংসদ সদস্য পদে জয়ী হওয়ার পর মাত্র একটি বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়েই তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসানো এবং স্টারমারকে সরানোর চার সপ্তাহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্রিটেনজুড়ে অজনপ্রিয়তার কারণে দলীয় আইনপ্রণেতারা স্টারমারের বিপক্ষে অবস্থান নেন।
বক্তব্যে বার্নহাম তার অভ্যন্তরীণ কর্মসূচির কিছু রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লন্ডন থেকে ব্রিটেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘ক্ষমতার সবচেয়ে বড় পুনর্বিন্যাস’ ঘটাতে চান তিনি। তার বিশ্বাস, এটি বৈষম্য এবং ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর’ ক্ষোভ কমাবে। এই জনগোষ্ঠী ক্রমেই রিফর্ম দলের দিকে ঝুঁকছে।
রিফর্মের উত্থান ঠেকানোর পরিকল্পনা লেবার আইনপ্রণেতাদের মন জয় করে নেয়। তাদের আশঙ্কা ছিল, ২০২৯ সালের মধ্যে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে ব্রেক্সিটের প্রবীণ প্রচারক নাইজেল ফারাজের জনতুষ্টিবাদী দলের কাছে তারা নিজেদের আসন হারাবেন। রিফর্ম কয়েক মাস ধরেই জনমত জরিপে শীর্ষে রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ধনী দাতাদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের ঘটনায় ফারাজের ভাবমূর্তিতে কিছুটা মলিনতা এসেছে। এটি বার্নহামের জন্য লেবারের ভাগ্য ফেরানোর একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে তার হাতে খুব বেশি সময় নেই। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন তিন বছরের বেশি দূরে নয়। তাই বার্নহামকে দ্রুত তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে। এর অনেকগুলোই দীর্ঘমেয়াদি চিন্তার ফসল।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন পেশাদারদের প্রতিনিধিত্বকারী স্বাধীন সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক নাইজেল উইলকক বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিন্ন পথ নিয়ে বার্নহাম বছরের পর বছর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ হলো এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়া।’





