সম্মেলনে তিনি ‘বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা’ (ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন) গঠনের ঘোষণা দেন। ২৯টি দেশ নিয়ে গঠিত এই সংস্থার সদর দপ্তর হবে সাংহাইয়ে।
শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব এখন এআই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘এক নজিরবিহীন প্রাণবন্ত উদ্ভাবনের সময়ে’ প্রবেশ করেছে। এতে যেমন বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে সুশাসনসংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জও। এআইকে ‘মানবজাতির সম্মিলিত জ্ঞানের এক অমূল্য সম্পদ’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। ২০১৮ সাল থেকে চীন এই সম্মেলনের আয়োজন করে আসছে। এই প্রথম শি জিনপিং সরাসরি এতে যোগ দিলেন।
ভাষণে তিনি বেশ কিছু প্রশ্ন তোলেন। যেমন ‘মানুষ কীভাবে চিন্তা করতে পারা যন্ত্রের সঙ্গে সহাবস্থান করবে, অ্যালগরিদম যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত থাকবে তখন নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে, প্রযুক্তির সৃষ্ট নৈতিক চ্যালেঞ্জ কীভাবে অভিযোজনযোগ্য সুশাসনের মাধ্যমে মোকাবিলা করা যাবে এবং ডিজিটাল বৈষম্য যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন কীভাবে ‘সবার জন্য এআই’ নিশ্চিত করা যাবে।’ তিনি বলেন, এসব প্রশ্নের ‘গুরুত্বসহকারে বিবেচনা ও উত্তর দিতে হবে পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে।’
মানুষের নিয়ন্ত্রণে এআই
আগামী পাঁচ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই প্রশিক্ষণ ও সেমিনারের ৫ হাজার সুযোগ ঘোষণা করে চারটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন শি জিনপিং।
তিনি বলেন, ‘প্রথমত, আমাদের উন্মুক্ততা ও জয়-জয়ভিত্তিক সহযোগিতার নীতি মেনে চলা এবং উদ্ভাবনভিত্তিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা উচিত।’ বিশ্ব ‘এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন বড় পরিবর্তনের’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে তিনি ‘ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং এআই যেন নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকে, তা নিশ্চিত করার’ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘এআই হওয়া উচিত মানবজাতির জন্য একটি নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার।’ এ জন্য তিনি আইন ও বিধিবিধান, প্রযুক্তিগত সতর্কতা ও জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন। ‘তৃতীয়ত,’ তিনি বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে ‘অন্তর্ভুক্তি ও পারস্পরিক শিক্ষাকে উৎসাহিত’ করার আহ্বান জানান। ‘চতুর্থত,’ ঐক্যের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে বৈশ্বিক সুশাসন উন্নত করার কথাও বলেন তিনি।
এআই ‘সব সময়ই মানুষের নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে, এ কথায় জোর দিয়ে তিনি এআই উন্নয়নে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে ‘অতিরিক্ত প্রসারিত’ না করার এবং একটি দেশের নিরাপত্তাকে ‘অন্যের ওপরে’ স্থান না দেয়ার আহ্বান জানান। সত্যিকারের বহুপাক্ষিকতা অনুশীলন এবং জাতিসংঘের ভূমিকাকে স্বীকার করে নেয়ার কথাও বলেন তিনি।
শি জিনপিং বলেন, ‘এআই উন্নয়ন কোনো একক দেশের একক পরিবেশনা নয়; এটি হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক সিম্ফনি।’





