পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বরগুনার গুরুত্বপূর্ণ বড়ইতলা ও পুরকাটা ফেরিঘাটের গ্যাংওয়ে সড়ক সম্পূর্ণ ডুবে গেছে। তলিয়ে যাওয়া রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত বিকল হচ্ছে যানবাহন। ফলে প্রতিদিন হাজারো পথচারীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ফেরিতে নিয়মিত যাতায়াত করা যাত্রীরা জানান, এই ফেরিঘাট থেকে প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব নেয়, অথচ জোয়ারের পানিতে যাতায়াতের রাস্তা ডুবে গেলেও কর্তৃপক্ষের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। তাদের দাবি, দ্রুত এই রাস্তাটি আরও উঁচু করে নির্মাণ করে যেন মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হয়।
যাত্রীরা আরও জানান, জোয়ারের সময় এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করা একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ে। পুরুষরা কোনোমতে কষ্ট করে পার হতে পারলেও, বেকায়দায় পড়তে হয় নারী ও শিশুদের।
আরও পড়ুন:
নদী তীরবর্তী পোটকাখালি এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বরগুনার বেশিরভাগ বেড়িবাঁধই এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাভাবিকের চেয়ে মাত্র ২-৩ ফুট পানি বাড়লেই বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়ে যায়। একইসঙ্গে বেড়িবাঁধের ভেতরে থাকা বাসিন্দাদেরও সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয়।
অন্যদিকে, সাগরে দীর্ঘদিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে না হতেই দুই দফায় এমন বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়েছেন জেলেরা। এতে মাছ শিকার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় উপকূলের জেলেরা এখন দিশেহারা। দিন দিন তাদের আর্থিক লোকসানের বোঝা ভারী হচ্ছে।
জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাগরে থাকা সব মাছ ধরার ট্রলারকে দ্রুত উপকূলে ফেরার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেশিরভাগ ট্রলার নিরাপদে ঘাটে ফিরে এসেছে। বাকি ট্রলারগুলো সুন্দরবনসহ আশপাশের বিভিন্ন নদ-নদীতে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।’
এদিকে বেড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, ‘টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে দুটি প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের কাছে অর্থ সহায়তার জন্য একটি বড় প্রকল্প প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রকল্প দুটি পাশ হয়ে এলে বরগুনার সব ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে মেরামত ও পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে উপকূলবাসীকে সুরক্ষা দেবে।’





