সাবেক কমিউনিস্ট শাসিত স্যাক্সনি-আনহাল্ট ও মেকলেনবুর্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়া রাজ্যে আগামী ৬ ও ২০ সেপ্টেম্বর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, অভিবাসনবিরোধী ও রুশপন্থি দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) সেখানে শীর্ষে রয়েছে। ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম জার্মানির কোনো রাজ্যে কট্টর ডানপন্থিরা ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের জোট সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এক্স, টিকটক ও ব্লুস্কাইয়ের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বিভ্রান্তিকর পোস্টের সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের প্রধান সন্দেহভাজন হলো মস্কো। তাদের অভিযোগ, জার্মানিকে অস্থিতিশীল করতে রাশিয়া এএফডিকে ব্যবহার করছে। তবে এএফডি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা নিজেরাই ‘রাজনৈতিক’ ষড়যন্ত্রের শিকার।
ক্রেমলিনবিরোধী অধিকারকর্মী গোষ্ঠী ‘অ্যান্টিবট ফর নাভালনি’ জানিয়েছে, রাশিয়ার ‘মাতৃয়োশকা’ (রাশিয়ান ডল) নামক একটি প্রোপাগান্ডা চক্র এই প্রচারণার নেপথ্যে রয়েছে। তারা এএফপি, এআরডি ও ডয়চে ভেলের মতো প্রথম সারির গণমাধ্যমের ভুয়া সংস্করণ তৈরি করে রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও যৌন কেলেঙ্কারির মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে। অদ্ভুতভাবে এই অপপ্রচারে এএফডি ও আরেকটি রুশপন্থি দল বিএসডব্লিউ-কে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।
জার্মান পার্লামেন্টের গোয়েন্দা তদারকি কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান কনস্টান্টিন ফন নটজ বলেন, এটা পরিষ্কার যে রাশিয়া এবং উগ্র ডানপন্থিরা ‘ভাগাভাগি করে কাজ করছে’। তার অভিযোগ, কোটি কোটি ডলার খরচ করে রাশিয়া যে বয়ান তৈরি করছে, তা এএফডি উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার করছে। তবে বার্লিনে রুশ দূতাবাস এই অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
বিপরীতে এএফডি নেতা উলরিখ সিগমুন্ডের দাবি, অন্য একটি দেশের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলা মানেই তাদের হয়ে কাজ করা নয়। জার্মানির স্বার্থেই রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। জার্মানি বর্তমানে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান দাতা দেশ এবং তারা নিজেদের সামরিক বাহিনীকে নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই শক্ত অবস্থান দুর্বল করতেই রাশিয়া দেশটিতে ‘মানসিক যুদ্ধ’ বা ‘কগনিটিভ ওয়ার’ শুরু করেছে।
 party top candidate-768x402.webp)




