ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপার বুধবার জানিয়েছেন, গত পাঁচ দিন ধরে রাশিয়ার ‘ভয়ংকর’ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলায় বেসামরিক ও শিল্প অবকাঠামোর পাশাপাশি বন্দরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওডেসার সামরিক প্রশাসক সের্হি লিসাক জানিয়েছেন, সেখানে হামলায় অন্তত তিনজন নিহত ও আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওডেসা ও চেরনোমোরস্ক বন্দরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, জ্বালানি মজুত এবং ড্রোন তৈরির কাজে ব্যবহৃত অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। ওডেসার বন্দরগুলো ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি ও যুদ্ধকালীন অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এখানে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়েছে মস্কো।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে ইউক্রেনও দক্ষিণ অংশে রুশ বাহিনীর রসদ সরবরাহ বাধাগ্রস্ত করতে এবং ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়াকে বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান জোরদার করেছে। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি দাবি করেছেন, তারা কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার ১৭টি তেলবাহী ট্যাংকার, দুটি গ্যাস ট্যাংকার এবং একটি টাগবোটে হামলা চালিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, গত নয় দিনে রাশিয়ার মোট ১১৬টি জাহাজকে তারা নিশানা করেছেন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইউক্রেনের এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। মস্কো জানিয়েছে, আজভ সাগরে জাহাজে ইউক্রেনীয় হামলার মুখে তারা তাদের রপ্তানি পথ পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এমন উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার কিইভে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্পকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত করতে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দেবেন তিনি। এর ফলে ইউক্রেন আরও দ্রুত ও বেশি অস্ত্র উৎপাদন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




