১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী মহেশপুর পৌরসভা। প্রায় ২২ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভা ২০০৪ সালে দ্বিতীয় থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়। কিন্তু নাগরিক সেবার চিত্রে যেন সেই উন্নয়নের ছাপ নেই। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পৌর এলাকার অধিকাংশই সড়ক এখন বেহাল। কোথাও ভেঙে গেছে রাস্তা, কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত।
ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। পৌরসভায় প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কের বিপরীতে ড্রেন রয়েছে মাত্র ১৫ কিলোমিটার। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। প্রয়োজন প্রায় তিন হাজার সড়কবাতির, রয়েছে মাত্র দুই হাজার। পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতের বেলায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, অল্প পানি হলে কাদা হয়ে যায়। তারপরে পানি জমে গেলে কোন জায়গায় গর্ত বা কোন জায়গা সমান, তা বোঝা যায় না। তা ছাড়া ড্রেনের অবস্থা ও অনেক খারাপ।
আরও পড়ুন
শুধু সড়ক বা ড্রেন নয়, পর্যাপ্ত সুপেয় পানি সরবরাহ নিয়েও বিস্তর অভিযোগ। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন পৌরবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত সংস্কার করা হোক সড়ক, নির্মাণ করা হোক প্রয়োজনীয় ড্রেন এবং বাড়ানো হোক নাগরিক সুবিধা। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, নাগরিক সেবা উন্নয়নে নেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রকল্প। এসব প্রকল্প অনুমোদন হলে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে বলে দাবি তাদের।
ঝিনাইদহ মহেশপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘মহেশপুর পৌরসভার ড্রেন এবং রাস্তা মেরামত, পাশাপাশি সড়ক বাতি স্থাপনের কার্যক্রম চলমান। খুব দ্রুত সঠিকভাবে এটা সম্পন্ন হবে। হলে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।’
প্রায় ৪২ হাজার মানুষের এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দেড় শতাধিক বছর পার করলেও নাগরিক সেবায় রয়েছে নানা ঘাটতি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সব সংকট কাটিয়ে দ্রুত একটি আধুনিক ও জনবান্ধব পৌরসভায় রূপ নেবে মহেশপুর।





