রাজধানী কিয়েভে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে চালানো হামলায় ১১ জন আহত হন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘বিমান হামলার সতর্কতা জারির আগেই বেসামরিক অবকাঠামোয় আঘাত হানা হয়েছে।’ তিনি জানান, উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে পারেনি।’ ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিশ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দ্রুত সরবরাহের জন্য তিনি মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ছয়টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২১টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
পরে সকালে বন্দরনগরী ওডেসায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুইজন নিহত এবং একজন আহত হন। একই সময়ে পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে একটি ড্রোন বেসামরিক একটি প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানলে সাতজন আহত হন।
গত এক মাস ধরে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদের তীব্র সংকটে রয়েছে ইউক্রেন। শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি গতিতে ছোটা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে দেশটি অনেকাংশেই ব্যর্থ হচ্ছে।
এ কারণে ইউক্রেন মিত্র দেশগুলোর কাছে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার গোলাবারুদ সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে। পাশাপাশি ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগও নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহে বলেছেন, ইউক্রেনকে নিজস্ব প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেয়া হবে। শনিবারের হামলার পর জেলেনস্কি এ প্রকল্পগুলো যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। চলতি মাসে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় হামলায় ইতিমধ্যে ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনও অধিকৃত দক্ষিণাঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। জ্বালানি ও গোলাবারুদ বহনকারী ট্রাক এবং জাহাজে হামলার মাধ্যমে রুশ বাহিনীর সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর প্রধান রবার্ট ব্রোভদি জানিয়েছেন, আজভ সাগরে রাতভর অভিযানে তাদের ইউনিট ২১টি জ্বালানিবাহী ট্যাংকার এবং আরও সাতটি মালবাহী ও সহায়ক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে মোট ৭৬টি জাহাজে হামলা করা হয়েছে।





