ভোমরা কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৬৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ রাজস্ব। এতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫০ কোটি ৬৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নানা সংকট দেখা দিয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক টানাপোড়েন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা, আমদানি হ্রাস এবং শুল্কায়ন কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে ভোমরা বন্দরে রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
এছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, এলসি বা ঋণপত্র খোলায় জটিলতা, ডলার সংকট এবং ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক আমদানিকারক আগের মতো পণ্য আমদানি করতে পারছেন না। ফলে বন্দরে পণ্য খালাস কমে যাওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়েও ভাটা পড়েছে।
আরও পড়ুন:
ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জটিলতা দূর করা না গেলে আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আসবে না। বিশেষ করে এলসি খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা, ডলার সংকট নিরসন, ব্যবসাবান্ধব শুল্কনীতি গ্রহণ এবং বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
ভোমরা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা বলেন, ‘নানামুখী সমস্যার কারণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসা কমে যাওয়ায় রাজস্ব খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এখন সুনির্দিষ্ট, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘ভোমরা স্থলবন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। এ বন্দরকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন খাত, শ্রমজীবী মানুষ এবং রাজস্ব খাতের বড় অংশ নির্ভরশীল। তাই বন্দরের কার্যক্রম সচল ও গতিশীল রাখতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
আরও পড়ুন:
ভোমরা কাস্টম হাউসের কমিশনার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, রাজস্ব অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা মূলত আমদানি-রপ্তানির ওপর নির্ভর করে। আমদানি কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়ে। তবে এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নতুন রাজস্ব আহরণ কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, নতুন অর্থবছরের বাজেটের আওতায় ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হবে। বাণিজ্য সহজীকরণ, পণ্য খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং রাজস্ব ফাঁকি রোধে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব ঘাটতি শুধু কাস্টমসের বিষয় নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সীমান্তবাণিজ্যের সামগ্রিক অবস্থার প্রতিফলন। তাই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানো, ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক সুবিধা সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।





