সরবরাহ-মজুত থাকা সত্ত্বেও কেন বাড়ছে চালের দাম?

চাল
চাল | ছবি: এখন টিভি
0

ভরা মৌসুম, পর্যাপ্ত সরবরাহ, গুদামে চালের মজুত সবকিছুর পরও দফায় দফায় বাড়ছে সুগন্ধি চালের দাম। মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি চিনিগুঁড়া চালের দাম বেড়েছে ২ হাজার টাকা। অন্যান্য চালের দামও বাড়তি। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিলার আর সিন্ডিকেটের কারণে চালের বাজার অস্থির হচ্ছে।

মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় দাম বেড়েছে সুগন্ধি চালের। বিশেষ করে উৎসব-পার্বণের অন্যতম অনুষঙ্গ সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের দাম আকাশছোঁয়া। বস্তাপ্রতি এ চালের দাম বেড়েছে ২ হাজার থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত।

কিন্তু ভরা মৌসুমে হঠাৎ কেন সুগন্ধি চালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি? ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চালের বাজার এখন আর সাধারণ মিলারদের নিয়ন্ত্রণে নেই। করপোরেট জায়ান্ট ও বড় মিল মালিকদের কারসাজিতেই জিম্মি হয়ে পড়েছে পুরো বাজার ব্যবস্থা। দেশের বাজারকে উপেক্ষা করে তারা চিনিগুঁড়া চাল বিদেশে রপ্তানি করছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে।

চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পাহাড়তলী বণিক সমিতি এম এস নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘দুই-তিনটা কোম্পানি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এক্সপোর্ট করছিল। অল্প চাল। তো অল্প চাল এক্সপোর্ট করে এইভাবে যে মানুষের টাকা পকেট থেকে টাকা হাতায় নিয়ে যাচ্ছে একটা বিশাল সিন্ডিকেট। একটা চালের বস্তাতে যদি, ৫০ কেজি চালে যদি ২,০০০ টাকা বাড়ে, তাহলে কি পরিমাণ টাকা মানুষ থেকে নিয়ে যাচ্ছে?

চিনিরগুঁড়ার এ সিন্ডিকেটের আঁচ লেগেছে সাধারণ চালেও। মাত্র এক-দেড় মাস আগে বোরোর ভরা মৌসুম শেষ হলেও, বাজারে তার কোনো সুফল নেই। মিনিকেট, জিরা সিদ্ধ, নাজিরশাইল কিংবা কাটারিভোগ, সব ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক্ষেত্রে চিনিগুড়ার প্রভাবের পাশাপাশি বাড়তি পরিবহন খরচকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা।

একজন পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, ‘তেলের দামটা বাড়ার কারণে গাড়ি ভাড়া বেড়েছে। তাই ২০-৫০ টাকা বস্তাতে বেড়েছে। স্বর্না ৫ টাকা বেড়েছে। যে খানে গাড়ি ভাড়া আসতো ১৭-১৮ হাজার টাকা, এখন ২২ থেকে ২৪ হাজার টাকা ভাড়া আসছে।’

সরকার নিত্যপণ্যের দরে লাগাম টানতে বাজেটে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবুও দেশে প্রধান খাদ্যের এ বাজার বারবার সিন্ডিকেটের হাত ধরে কেন অস্থির হবে? সে প্রশ্ন ভোক্তাদের।

একজন ভোক্তা বলেন, ‘এভাবে যদি বাড়ে তাহলে মধ্যবিত্ত যারা আছে তারা তো পরিশ্রম করেও আর চলতে পারব না।’

ট্যারিফ কমিশনের হিসাবে, দেশে বছরে চালের চাহিদা ৩ কোটি ৬০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন। দেশে চাল উৎপাদন চাহিদার চেয়েও বেশি এমন তথ্য বারবার তুলে ধরছে সরকারি সংস্থাগুলো। তাহলে প্রশ্ন হলো—সমস্যা কি উৎপাদনে, নাকি বাজার ব্যবস্থাপনায়?

জেআর