ইরান সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মেদভেদেভ বলেন, বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হলে তেহরান বাব-এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলও ব্যাহত করতে পারে। তার মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ তেল ও বাণিজ্যিক পরিবহন বন্ধ করে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি বিষয়টি সেই পর্যায়ে যাবে না, তবে এই অঞ্চলে সংঘাত চাওয়া সব দেশেরই এটি মনে রাখা উচিত।’
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সমালোচনা করেন মেদভেদেভ। তার ভাষায়, এই হামলা ছিল ‘পুরোপুরি উসকানিহীন’। তিনি জানান, যখন দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল, তখন তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি ছিল না। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। মেদভেদেভ জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের শান্তিপূর্ণ সমাধান আগেই প্রস্তাব করেছিল রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে মেদভেদেভ বলেন, সংঘাতের চেয়ে আলোচনা অনেক ভালো। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো ‘অত্যন্ত কঠিন’ হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অর্থায়নের বিষয়গুলো সমাধান করা কঠিন হবে।
মেদভেদেভ জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তিনি আরেকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। মস্কো যাকে ‘অবৈধ’ নিষেধাজ্ঞা বলে অভিহিত করে, তার বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রচেষ্টার জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন দেশগুলোকে নিয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রস্তাবটি কয়েক বছর আগে তেহরানই প্রথম দিয়েছিল। এই প্রস্তাব চুক্তি বা সংগঠনের রূপ নিতে পারে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার প্রয়াত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতার ফাঁকে তেহরানে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেন মেদভেদেভ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে মস্কোর পক্ষ থেকে শোক জানাতে তেহরান সফর করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধ চলে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পরে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুদ্ধবিরতি হয়।





