ইরানে তিন দশকের বেশি সময় শাসন করা খামেনি গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন। ওই হামলার পর অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
আজ (শনিবার, ৪ জুলাই) সকালে ইরানের রাজধানীর বিশাল গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির মরদেহ রাখা হয়। সেখানে দেখা যায়, হাজারো মানুষ শিয়া ইসলামে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে লাল পতাকা হাতে ভিড় করছেন। জানাজার অনুষ্ঠানে একজন শোকগাথা পাঠক চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমরা দাফনের জন্য আসিনি, এসেছি প্রতিশোধ নিতে। আমরা আপনার রক্ত বৃথা যেতে দেব না, এটি আমাদের জন্য চূড়ান্ত সীমা।’
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শোকার্ত মানুষ মোসাল্লা চত্বরের দিকে এগিয়ে যান, যেখানে খামেনির কফিন রাখা ছিল। হামিদরেজা শাবানি নামের ১৮ বছর বয়সী এক ছাত্র এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের জেগে উঠতে হবে এবং সৃষ্টিকর্তা চাইলে নেতার রক্তের বদলা নিতে হবে।’
কুরআন তেলাওয়াত শেষে নীল মখমলের পর্দার আড়াল থেকে ইরানের পতাকায় মোড়ানো কফিনটি উন্মোচন করা হয়। একই হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের সদস্যদের কফিনগুলোও পাশে রাখা ছিল। মোসাল্লা চত্বরের দেয়ালে খামেনির জীবনের বিভিন্ন সময়ের প্রতিকৃতি ঝোলানো হয়।
ভিড়ের মধ্যে অনেককে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির ছবি বহন করতে দেখা গেছে। তিনি তার বাবার উত্তরসূরি হলেও এখনো জনসমক্ষে আসেননি। এছাড়া লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হলুদ পতাকাও জনস্রোতে দেখা গেছে।
রেজা নামের ৩৭ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত নেতার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে এসেছি। তিনি আমাদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।’
তেহরানের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকায় ভিড়ের মধ্যে পানি ছিটানো হয়। জানাজা উপলক্ষে ট্রাফিক বিধিনিষেধ থাকায় অনেককে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে হয়। এর আগে শুক্রবার একই স্থানে বিদেশি প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে খামেনির স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আলী খামেনি। গত মাসে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সই করলেও স্থায়ী সমাধানের আলোচনা এখনো চলছে। এরই মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে গোলাগুলির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।





