বরেন্দ্রর আকাশ জুড়ে মেঘেদের নিবিড় আয়োজন। তবু আকাশ ছেয়েফেলা আষাঢ়ের মেঘে লুকোচুরি খেলে সূর্যকিরণ। আসি-আসি করেও আসেনা কাঙ্ক্ষিত মুখর বাদল দিন। তাতে দুই এক ফোটার গুড়ি বৃষ্টিতে প্রাণ ভেজেনা বরেন্দ্রর দিগন্ত জোড়া প্রান্তরের।
শুষ্ক বরন্দ্রের ডানহাল-লাঙ্গি, গনেকের ড্যাং কিংবা নিমঘুটু গ্রামে, কৃষকের আগ্রহ তাই বৃষ্টির খবরে।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে গেল মাসে মাত্র ৬দিনে বৃষ্টি হয়েছে ৫২ দশমিক ৮ মিলিমিটার। ফলে আমনের জন্য প্রস্তুত না হয়ে এখনো ধুলোয়-ধূসর মাঠঘাট। এর মাঝে সেচের পানিতে তৈরি করা বীজতলা গুলো টিকিয়ে রাখতে সার, কীটনাশক দিয়ে যত বাড়িয়েছেন চাষিরা, তাতে বাড়ছে খরচ।
গোদাগাড়ী নিমঘুটু গ্রামের কৃষক দুরবিন টুডু বলেন, ‘আমাদের এলাকাতে বৃষ্টি কম। একটি মাত্র পাইপ থেকে পানি আসছে। খরচ বেড়ে যাবে। যেহেতু আমরা পানি পাচ্ছি না।’
আরও পড়ুন:
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভরা বর্ষায়, জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে প্রস্তুত হয় আমনের বীজতলা। তবে বৃষ্টি স্বল্পতায় এবারে বীজতলা করতে হয়েছে সেচের পানিতে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেও বৃষ্টির দেখা না পেলে অতিরিক্ত খরচেই ধান লাগানোর আয়োজন করতে হবে বলছে কৃষক।
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা জানান, তারা বৃষ্টির অপেক্ষায় আছেন। এখন যে খরচ লাগবে বৃষ্টি না হলে তার থেকে খরচ আরও বেড়ে যাবে বলে জানান তারা।
তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, কৃষকদের কৃষি সরঞ্জাম ও সেচের পানি পাওয়া নিশ্চিত করে সহায়তা করছেন তারা। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আমনের আবাদে মাঠ প্রস্তুত করতে পারবেন বলেও আশা করেছে কৃষি বিভাগ।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘সামনে রোপা মৌসুম রয়েছে সেই রোপা মৌসুমে আমাদের বীজতলা করতে কোনো সমস্যা হবে না। কোনো সমস্যা হলে আমাদের যে সেচ যন্ত্র আছে তার সহায়তা নেয়া হবে।’
চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছে। সঠিক সময়ে রোপণ কাজ সম্পন্ন করা গেলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় কোন প্রভাব পড়বে না দাবি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের।





